গত দেড় দশকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন দেশের নাগরিক পরিবেশ সংকুচিত করেছে। এটি মন্তব্য করেছেন সিটিজেন প্লাটফর্ম ফর এসডিজি বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন অর্থবহ হবে কি না তা নিয়েও মানুষের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে ‘নাগরিক ইশতেহার প্রকাশ ও জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় সূচনা বক্তব্যে ড. দেবপ্রিয় বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রচিন্তার যে দিশা নির্ধারিত হয়েছিল, তা ধারাবাহিকভাবে ওঠানামার মধ্য দিয়ে এগোলেও আজও একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা পূর্ণতা পায়নি।
তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রগঠনের দ্বিতীয় বড় মোড় ছিল। তবুও দেশের ভঙ্গুর কাঠামো ভেঙে মৌলিক সংস্কারের কোনো সফল প্রচেষ্টা হয়নি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গত দেড় দশকের শাসনকালকে সমালোচনা করে বলেন, মতপ্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন গভীর শাসনতান্ত্রিক সংকট তৈরি করেছে। এই সংকটের প্রভাবে জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কর্তৃত্ববাদ, ভয়ভীতি এবং জবাবদিহিতাহীনতার বিরুদ্ধে আমরা ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে কঠোরভাবে প্রত্যাঘাত করেছি।
সারাদেশে নাগরিক প্লাটফর্মের সংলাপে মানুষের শঙ্কা তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও তা কি আদৌ অর্থবহ হবে? এই নির্বাচনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর পাওয়া যাবে কি না, তা বড় প্রশ্ন।”
তার মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তা কি অর্থবহ হবে। এই প্রেক্ষাপটে সিটিজেন প্লাটফর্ম যে নাগরিক ইশতেহার উপস্থাপন করেছে, তা জনগণের “সামষ্টিক দরকষাকষির হাতিয়ার” হিসেবে দেখছেন। ইশতেহার সময়ের সঙ্গে পরিশীলিত ও বাস্তবমুখী হবে।
ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ায় আটটি বিভাগীয় শহরে আঞ্চলিক পরামর্শ সভা, ১৫টি যুব কর্মশালা, অনলাইন ও সরাসরি মতামত সংগ্রহসহ দেড় শতাধিক দিনের অংশগ্রহণমূলক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাগরিকরা এই ইশতেহারে নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, সুশাসন, আদিবাসীদের স্বীকৃতি, পরিবেশ সুরক্ষা, সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতার বিষয় তুলে ধরেছেন।
ড. দেবপ্রিয় প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো নাগরিক চাপ গ্রহণের জন্য কতটা প্রস্তুত। তিনি বলেন, অতীতেও নাগরিক সমাজের বহু রূপকল্প, শ্বেতপত্র ও সংস্কার প্রস্তাব ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছালেও কার্যকর পরিবর্তনে রূপ নেয়নি।
শুধু নীতি প্রস্তাব যথেষ্ট নয়। বাস্তবায়নের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ। এজন্য ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’ উদ্যোগের কথা জানান তিনি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের দাবি করা হচ্ছে।

