Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice Tue, Feb 3, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বীমা খাতকে পুনর্গঠনে আরও মনোযোগী হতে হবে
    মতামত

    বীমা খাতকে পুনর্গঠনে আরও মনোযোগী হতে হবে

    মনিরুজ্জামানFebruary 3, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের বীমা খাতকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘আস্থার সংকটে থাকা খাত’ হিসেবে দেখা হয়। এই সংকট হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতা ও নীতিগত ব্যর্থতাই ধীরে ধীরে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ফলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানো আজও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

    এই প্রেক্ষাপটে বীমা খাতের বাস্তব চিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন মামুন রশীদ। তিনি দেশের একজন প্রথিতযশা ব্যাংকার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক। প্রায় চার দশক ধরে দেশ ও বিদেশে ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

    ২০০৭–০৮ সালে বীমা খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মামুন রশীদ। পরে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বীমা খাত উন্নয়ন প্রকল্পে লিড কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। এই সময়ে তিনি খাতটির নীতি, কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড এবং বিডি ভেঞ্চারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বীমা খাতের নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন তিনি।

    বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স বা বীমা খাতকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ‘‌আস্থার সংকটে থাকা খাত’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। আপনার দৃষ্টিতে এ আস্থাহীনতার মূল কারণগুলো কী কী বলে আপনি মনে করেন?

    বাংলাদেশে বীমা খাতকে দীর্ঘদিন ধরে ‘‌আস্থার সংকটে থাকা খাত’ বলা হয়। এটি হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং বছরের পর বছর ধরে সঞ্চিত কিছু কাঠামোগত ও নীতিগত ব্যর্থতার ফল। আমার দৃষ্টিতে এ আস্থাহীনতার মূল কারণ শুরু হয় ক্লেইম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থেকে। একজন গ্রাহক যখন নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করার পরও যৌক্তিক সময়ে ক্লেইমের টাকাটা পান না, তখন সেটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, পুরো খাতের ওপর আঘাত করে।

    দ্বিতীয়ত, করপোরেট গভর্ন্যান্সের ঘাটতি এ সংকটকে আরো গভীর করেছে। অনেক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে পেশাদারত্বের অভাব, স্বার্থসংঘাত ও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার চেয়ে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকের ক্ষতি ডেকে আনে।

    তৃতীয়ত, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর দুর্বল প্রয়োগ একটি বড় কারণ। আইন ও বিধিমালা থাকলেও তার বাস্তবায়ন যথেষ্ট কঠোর নয়। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ধীর ও অনিয়মিত হওয়ায় বাজারে শৃঙ্খলা তৈরি হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এজেন্টনির্ভর বিক্রয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের প্রকৃত শর্ত না বুঝিয়েই পলিসি বিক্রি করা হয়।

    পরিশেষে বলতে হয়, বীমা খাতকে এখনো নীতিগতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ দুর্বল। যতদিন না গ্রাহক সুরক্ষা, শক্ত নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে নিশ্চিত করা যাবে, ততদিন এ আস্থার সংকট কাটানো কঠিনই থেকে যাবে।

    ক্লেইম পরিশোধে বিলম্ব ও জটিলতা নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্যার পেছনে কি কাঠামোগত দুর্বলতা বেশি, নাকি ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা?

    ক্লেইম পরিশোধে বিলম্ব ও জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আমি শুধু ব্যবস্থাপনাগত অদক্ষতা হিসেবে দেখব না। বরং এটি মূলত একটি কাঠামোগত সমস্যার বহিঃপ্রকাশ, যার ওপর দুর্বল ব্যবস্থাপনা আরো চাপ তৈরি করেছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের বীমা খাতের ব্যবসায়িক মডেল শুরু থেকেই যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ও দায় ব্যবস্থাপনার ওপর দাঁড়ায়নি। অনেক কোম্পানি বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়াই পলিসি ইস্যু করেছে। ফলে ভবিষ্যৎ ক্লেইম দায় তাদের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রিমিয়াম তহবিল ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। ক্লেইম পরিশোধের জন্য যেসব তহবিল দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত ও তরল থাকার কথা সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে ভুল বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা স্বল্পমেয়াদি স্বার্থে আটকে গেছে।

    ফলে ক্লেইম আসার সময় কোম্পানিগুলো নগদ সংকটে পড়ে, আর তার সরাসরি ভুক্তভোগী হন গ্রাহক। তবে এ কাঠামোগত দুর্বলতার দায় এড়িয়ে ব্যবস্থাপনাকে দায়মুক্ত করা যায় না। কার্যকর ক্লেইম প্রসেস, স্বচ্ছ ডকুমেন্টেশন ও সময়সীমাভিত্তিক নিষ্পত্তি এ মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক তদারকির দুর্বলতা এ আচরণকে কার্যত উৎসাহিত করেছে।

    সব মিলিয়ে বলা যায়, ক্লেইম জটিলতা কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা নয়। এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোর ফল। যেখানে দুর্বল নীতি, অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা একে অন্যকে শক্তিশালী করে চলেছে।

    ব্যাংক খাতের তুলনায় বীমা খাতে সেবার মান ও মানবসম্পদের মান অনেক পিছিয়ে। এ ব্যবধান কেন তৈরি হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?

    ব্যাংক খাতের তুলনায় বীমা খাতে সেবার মান ও মানবসম্পদের মান যে স্পষ্টভাবে পিছিয়ে, সেটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং এটি দীর্ঘদিনের নীতিগত অগ্রাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির পার্থক্যের ফল। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যাংক খাত বরাবরই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন, সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বৈদেশিক বাণিজ্য সবকিছুই ব্যাংকনির্ভর। ফলে এ খাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, পেশাদার কাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ গড়ে উঠেছে। এর বিপরীতে বীমা খাতকে দীর্ঘদিন একটি সহায়ক বা পার্শ্ব খাত হিসেবে দেখা হয়েছে।

    নীতিগত গুরুত্ব কম থাকায় নিয়ন্ত্রক চাপ তুলনামূলক দুর্বল থেকেছে এবং পেশাদারত্বের মানও সেই অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি। ব্যাংকে যেখানে কাঠামোবদ্ধ নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার অগ্রগতির স্পষ্ট পথ রয়েছে, বীমা খাতে সেখানে এখনো এজেন্টনির্ভর বিক্রয় মডেল প্রাধান্য পায়। ফলে মানবসম্পদ নির্বাচনে গুণগত মানের চেয়ে বিক্রয় সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

    এ ব্যবধান আরো গভীর হয়েছে সামাজিক ধারণা ও প্রণোদনার পার্থক্যে। ব্যাংকিং পেশা সামাজিকভাবে সম্মানজনক ও স্থিতিশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় মেধাবীরা স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আকৃষ্ট হন। বিপরীতে বীমা খাতে অনিশ্চিত ক্যারিয়ার ও দুর্বল সেবা কাঠামো মেধা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, এ ব্যবধান বাজারের নয়। এটি মূলত নীতিগত অবহেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘাটতির প্রতিফলন।

    বীমা কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে স্বার্থসংঘাত ও পেশাদারত্বের ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যমান করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইনগুলো কি যথেষ্ট, নাকি বাস্তবায়নই মূল সমস্যা?

    বীমা কোম্পানিগুলোর করপোরেট গভর্ন্যান্স নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, সেটির মূল সমস্যা গাইডলাইনের অভাবে নয়, বরং বাস্তবায়নের ঘাটতিই এখানে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। কাগজে-কলমে বাংলাদেশে বীমা খাতের জন্য প্রয়োজনীয় করপোরেট গভর্ন্যান্স নির্দেশনা, পর্ষদের দায়িত্ব, অডিট ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো বিদ্যমান। কিন্তু বাস্তবে এসব গাইডলাইন অনেক ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকতার বাইরে যায় না।

    পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে স্বার্থসংঘাতের অভিযোগের একটি বড় কারণ হলো পর্ষদগুলোর গঠন। বহু ক্ষেত্রে পর্ষদে স্বাধীন ও পেশাদার সদস্যের উপস্থিতি সীমিত, আর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সীমারেখা স্পষ্ট নয়। ফলে পর্ষদ নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন না করে দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করে, যা পেশাদার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দুর্বল করে দেয়। এ সমস্যাকে আরো জটিল করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির সীমাবদ্ধতা। গাইডলাইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তির নজির কম থাকায় পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার জবাবদিহি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার চেয়ে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক স্বার্থ প্রাধান্য পায়। নতুন গাইডলাইন প্রণয়নের চেয়ে বেশি জরুরি হলো বিদ্যমান নিয়মের কঠোর প্রয়োগ, পর্ষদের গঠন সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা। এগুলো ছাড়া বীমা খাতে পেশাদারত্ব প্রতিষ্ঠা করা কঠিন।

    অনেক সময় অভিযোগ শোনা যায়, ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়াই পলিসি ইস্যু করা হচ্ছে এবং অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রিমিয়াম কমানো হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

    ঝুঁকি বিশ্লেষণ ছাড়াই পলিসি ইস্যু করা এবং অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রিমিয়াম কমানো। এ দুটি প্রবণতাই দীর্ঘমেয়াদে ইন্স্যুরেন্স খাতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আত্মঘাতী। বীমা মূলত একটি সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবসা। এখানে প্রিমিয়াম নির্ধারণ যদি প্রকৃত ঝুঁকি, পরিসংখ্যান ও দায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সেই ব্যবসা টেকসই হওয়ার সুযোগই থাকে না।

    বাংলাদেশের বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় অনেক কোম্পানি আন্ডাররাইটিং শৃঙ্খলা বিসর্জন দিচ্ছে। কম প্রিমিয়ামে পলিসি বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে আয় বাড়ালেও ভবিষ্যৎ ক্লেইম দায়ের জন্য প্রয়োজনীয় রিজার্ভ তৈরি হচ্ছে না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্লেইম পরিশোধে অক্ষমতার ঝুঁকি বাড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে গ্রাহকের আস্থার ওপর।

    এ প্রবণতা শুধু পৃথক কোম্পানির সমস্যা নয়। বরং এটি একটি সম্ভাব্য সিস্টেমিক বা সামগ্রিক খাতের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। একাধিক কোম্পানি একসঙ্গে আর্থিক চাপে পড়লে বাজারে আস্থার সংকট আরো গভীর হয় এবং বীমা খাতের ওপর সামগ্রিক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকিভিত্তিক আন্ডাররাইটিং, ন্যূনতম প্রিমিয়াম শৃঙ্খলা ও রিজার্ভ-সংক্রান্ত বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ না হলে এ প্রবণতা থামবে না। আরো বলতে গেলে স্বল্পমেয়াদি প্রতিযোগিতার লাভ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি দায় মেটানো যায় না। এ বাস্তবতা যত দ্রুত খাতটি উপলব্ধি করবে, তত দ্রুত টেকসই সংস্কারের পথ খুলবে।

    বাংলাদেশের বীমা খাত এখনো মূলত এজেন্টনির্ভর বিক্রয় ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে। এ মডেল কি গ্রাহক সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়? এ মডেল থেকে বেরিয়ে আসার বাস্তবসম্মত উপায় কী হতে পারে?

    বাংলাদেশের বীমা খাতের বর্তমান এজেন্টনির্ভর বিক্রয় মডেলটি বাস্তবে গ্রাহক সুরক্ষার সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। কারণ এ মডেলে বিক্রয়ের প্রণোদনাই মুখ্য, পণ্যের উপযুক্ততা ও দীর্ঘমেয়াদি দায়ের বিষয়টি গৌণ থাকে। অনেক এজেন্টের আয় নির্ভর করে কমিশনের ওপর, ফলে পলিসির শর্ত, ঝুঁকি বা সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি ব্যাখ্যা না করেই বিক্রি করার প্রবণতা তৈরি হয়। এর ফল ভোগ করেন গ্রাহক—বিশেষ করে ক্লেইমের সময়।

    তবে এটাও স্বীকার করতে হবে, বাংলাদেশের মতো দেশে এজেন্ট মডেল সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা বাস্তবসম্মত নয়। সমস্যা মডেলে নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ ও কাঠামোর দুর্বলতায়। এখান থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম উপায় হলো এজেন্ট ব্যবস্থাকে পেশাদার কাঠামোর মধ্যে আনা—লাইসেন্সিং, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, ন্যূনতম যোগ্যতা ও আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা। কমিশন কাঠামোকেও এমনভাবে সংস্কার করতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি পলিসি ধরে রাখার সঙ্গে এজেন্টের প্রণোদনা যুক্ত থাকে। দ্বিতীয়ত, বিক্রয় চ্যানেলের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি।

    ব্যাংকাস্যুরেন্স, ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও করপোরেট চ্যানেলের মাধ্যমে বিক্রি বাড়ালে এজেন্টের ওপর অতিনির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি গ্রাহকের জন্য স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ ও স্ট্যান্ডার্ড প্রডাক্ট ডকুমেন্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। এজেন্ট মডেল সংস্কার না করে শুধু অভিযোগ করলেই হবে না। সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে এ মডেলকেও গ্রাহকবান্ধব করা সম্ভব।

    বর্তমান বীমা পণ্যগুলো কি দেশের বাস্তব চাহিদা—যেমন স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন বা কৃষি বীমা পর্যাপ্তভাবে পূরণ করতে পারছে? না পারলে এর কারণগুলো কী বলে আপনি মনে করেন?

    বাস্তবভাবে বলতে গেলে, বাংলাদেশের বর্তমান বীমা পণ্যগুলো দেশের প্রকৃত চাহিদা—বিশেষ করে স্বাস্থ্য বীমা, পেনশন ও কৃষি বীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত, পর্যাপ্তভাবে পূরণ করতে পারছে না। অথচ একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এসব পণ্য সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার কথা। এ ঘাটতির প্রথম কারণ হলো নীতিগত অগ্রাধিকারের অভাব। দীর্ঘদিন ধরে বীমা খাতকে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

    দ্বিতীয়ত, এ খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ডেটার সীমাবদ্ধতা একটি বড় প্রতিবন্ধক। স্বাস্থ্য বা কৃষি বীমার মতো পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান, অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ ও পুনর্বীমা সহায়তা প্রয়োজন। এসব সক্ষমতা অনেক কোম্পানির মধ্যেই গড়ে ওঠেনি। ফলে তারা তুলনামূলক সহজ ও স্বল্পঝুঁকির পণ্যের দিকেই ঝুঁকে থাকে।

    তৃতীয়ত, পণ্যের নকশা ও বিতরণ ব্যবস্থাও বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কৃষক বা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য যেসব পণ্য প্রয়োজন, সেগুলোতে প্রিমিয়াম সংগ্রহ, ক্লেইম যাচাই ও বিতরণ খরচ তুলনামূলক বেশি। নীতিগত সহায়তা ও প্রযুক্তি ছাড়া এ ব্যয় বহন করা কঠিন। তাছাড়া বাজারের ব্যর্থতার পাশাপাশি এখানে একটি নীতিগত শূন্যতাও রয়েছে। সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া স্বাস্থ্য, পেনশন ও কৃষি বীমাকে কার্যকর ও বিস্তৃত করা সম্ভব নয়।

    নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ম করে, কিন্তু শাস্তি কার্যকর হয় না—এমন অভিযোগ বহুদিনের। আপনার মতে, বীমা খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাসন বা রেগুলেটরি গভর্ন্যান্স দুর্বল হওয়ার মূল কারণ কী?

    বীমা খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাসন বা রেগুলেটরি গভর্ন্যান্স দুর্বল হওয়ার মূল কারণ একক কোনো ব্যর্থতা নয়। বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সমষ্টিগত প্রতিফলন। বাস্তবতা হলো, নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগে যে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রয়োজন, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। ফলে নিয়ম থাকা সত্ত্বেও শাস্তির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ধারাবাহিকতা দেখা যায় না।

    এর একটি বড় কারণ হলো প্রয়োগ ও জবাবদিহির ঘাটতি। অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম শনাক্ত হলেও দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এতে বাজারে একটি ভুল বার্তা যায় যে, নিয়ম ভাঙলেও বড় ধরনের সমস্যা হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। জটিল বীমা পণ্য, বিনিয়োগ ঝুঁকি ও অ্যাকচুয়ারিয়াল বিষয় তদারকির জন্য যে বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন, তা এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি।

    আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতিগত অস্পষ্টতা ও প্রভাবমুক্তির অভাব। নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনেক সময় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যবসায়িক স্বার্থের চাপের মুখে পড়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়। ফলে শাসন কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, বীমা খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বলতা মূলত আইনের অভাবে নয়, বরং স্বাধীনতা, সক্ষমতা ও প্রয়োগের দৃঢ়তার ঘাটতির ফল। এ জায়গাগুলো শক্ত না হলে শুধু নতুন নিয়ম করেও কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে না বলে আমি মনে করি।

    ডিজিটাল ক্লেইম, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ই-কেওয়াইসি ছাড়া আধুনিক বীমা ব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। তা সত্ত্বেও বীমা খাতে ডিজিটাল রূপান্তরে এত ধীরগতি কেন? এখানে নীতিগত বাধা কোথায়?

    ডিজিটাল ক্লেইম, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ই-কেওয়াইসি ছাড়া আধুনিক ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা কার্যত অচল। এ সত্যটি নীতিনির্ধারকরাও বোঝেন। তবু ডিজিটাল রূপান্তর ধীর হওয়ার কারণ প্রযুক্তিগত অক্ষমতার চেয়ে বেশি নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক জড়তা। প্রথমত, ইন্স্যুরেন্স খাতে এখনো স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক ডিজিটাল রোডম্যাপ নেই। প্রযুক্তি গ্রহণকে অনেক প্রতিষ্ঠান ঐচ্ছিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখে, ন্যূনতম কমপ্লায়েন্স হিসেবে নয়। ফলে উদ্যোগ থাকে খণ্ডিত ও অসম।

    দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ডিজিটাল ক্লেইমের ক্ষেত্রে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট। একক প্লাটফর্ম, ডেটা স্ট্যান্ডার্ড ও তথ্য ভাগাভাগির নীতিমালা না থাকায় প্রতিটি কোম্পানি নিজ নিজ সীমিত সক্ষমতায় কাজ করছে। এতে স্কেল তৈরি হচ্ছে না এবং ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। নীতিগতভাবে এ সমন্বয় নিশ্চিত না করা ডিজিটাল অগ্রগতির বড় বাধা।

    তৃতীয়ত, ডিজিটালাইজেশন মানে স্বচ্ছতা। আর স্বচ্ছতা মানে জবাবদিহিতা। অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্লেইম ও ই-কেওয়াইসি চালু হলে অনিয়ম, কাজের ধীরগতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান হয়ে পড়বে। এ অনীহা নীরব হলেও বাস্তব।

    তাছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নির্দেশনাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। শক্ত নীতিগত নির্দেশনা, সময়সীমাভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং কেন্দ্রীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ছাড়া বীমা খাতে ডিজিটাল রূপান্তর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না।

    বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম তহবিল বিনিয়োগে ঝুঁকি ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এটি ভবিষ্যতে গ্রাহকদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে?

    বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম তহবিল বিনিয়োগে ঝুঁকি ও স্বচ্ছতার অভাব ভবিষ্যতে গ্রাহকদের জন্য গুরুতর আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রিমিয়াম তহবিল কোনো কোম্পানির নিজস্ব আয় নয়। এটি মূলত গ্রাহকের ভবিষ্যৎ ক্লেইম পরিশোধের জন্য সংরক্ষিত একটি বিশ্বাসভিত্তিক তহবিল। এ তহবিলের বিনিয়োগ যদি যথাযথ ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতার সঙ্গে না করা হয়, তাহলে সেই বিশ্বাস ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    প্রথম ঝুঁকিটি হলো তারল্য সংকট। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা স্বল্প তরল খাতে বিনিয়োগের ফলে ক্লেইমের সময় কোম্পানির হাতে পর্যাপ্ত নগদ না থাকলে গ্রাহক সময়মতো অর্থ পাবেন না। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগে স্বার্থসংঘাত ও সম্পর্কিত পক্ষের বা রিলেটেড পার্টির লেনদেন থাকলে তহবিলের প্রকৃত নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এতে ক্ষতি হলে তার দায় শেষ পর্যন্ত এসে পড়ে গ্রাহকের ওপর।

    আরো একটি বড় ঝুঁকি হলো সিস্টেমিক প্রভাব। একাধিক কোম্পানি যদি একই সময়ে বিনিয়োগ ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে পুরো ইন্স্যুরেন্স খাতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। তখন সুস্থ কোম্পানিও সন্দেহের মুখে পড়ে, যা বাজারের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে।

    সেই সঙ্গে প্রিমিয়াম তহবিল বিনিয়োগে স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে গ্রাহক শুধু ক্লেইম ঝুঁকিতেই পড়বেন না। বরং পুরো খাতের ওপর আস্থা হারানোর মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়বে।

    আপনার মতে, বীমা খাত সংস্কারে সবচেয়ে জরুরি তিনটি নীতিগত সিদ্ধান্ত কী, যেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে এ খাতের আস্থাহীনতা কাটবে না?

    আমার দৃষ্টিতে, বীমা খাতের আস্থাহীনতা কাটাতে সংস্কারের তালিকা বড় হতে পারে, কিন্তু তিনটি নীতিগত সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার না দিলে এ খাতে টেকসই পরিবর্তন আসবে না। প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো ক্লেইম সুরক্ষাকে আইনি অধিকার হিসেবে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা। ক্লেইম নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা এবং গ্রাহক ক্ষতিপূরণের বিধান কার্যকর না হলে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়। গ্রাহককে কেন্দ্রে না রাখলে বীমা কখনই বিশ্বাসভিত্তিক খাত হতে পারে না।

    দ্বিতীয় সিদ্ধান্তটি হওয়া উচিত নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাসনের দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ। নিয়ম ভাঙলে দ্রুত ও কঠোর শাস্তির নজির তৈরি করতে হবে। সেটা হতে পারে লাইসেন্স স্থগিত, পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন কিংবা বাজার থেকে প্রস্থান পর্যন্ত। এতে ভালো ও খারাপ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি হবে এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আমার বিশ্বাস।

    তৃতীয় ও দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত হলো পেশাদার মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তোলা। ঝুঁকিভিত্তিক আন্ডাররাইটিং, ডিজিটাল ক্লেইম, কেন্দ্রীয় ডেটাবেস ও ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক না করলে বীমা খাত আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার অংশ হতে পারবে না।

    আস্থাহীনতা একদিনে তৈরি হয়নি, আবার তা ভাঙতেও হবে সমন্বিত ও কঠোর নীতিগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

    সবশেষে যদি এখনই বীমা খাতে সংস্কার শুরু না হয়, তাহলে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশের এ খাতকে আপনি কোন অবস্থানে দেখতে পাচ্ছেন এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব কী হতে পারে?

    যদি এখনই বীমা খাতে অর্থবহ সংস্কার শুরু না হয়, তাহলে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে এ খাতকে আমি একটি প্রান্তিক, আস্থাহীন ও অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর খাত হিসেবেই দেখতে পাই। বাহ্যিকভাবে হয়তো কোম্পানির সংখ্যা থাকবে, প্রিমিয়াম আদায় চলবে, কিন্তু বীমার মূল উদ্দেশ্য (ঝুঁকি হ্রাস ও আর্থিক নিরাপত্তা) বাস্তবে পূরণ হবে না। তখন এ খাত একটি কার্যকর আর্থিক মধ্যস্থতাকারী না হয়ে কেবল নামমাত্র ব্যবসায়িক কাঠামোতে পরিণত হবে।

    এর প্রথম ও সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর। একবার যদি মানুষ বিশ্বাস করে যে বীমা মানেই ক্লেইম অনিশ্চিত, তাহলে নতুন গ্রাহক তৈরি হবে না এবং বিদ্যমান গ্রাহকরাও ধীরে ধীরে সরে যাবে। এর ফলে প্রিমিয়াম তহবিল সংকুচিত হবে, আর সেই সংকোচন কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে আরো দুর্বল করবে এবং একটি আত্মবর্ধনশীল নেতিবাচক চক্র তৈরি হবে।

    দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এর প্রভাব হবে আরো গভীর। একটি দুর্বল বীমা খাত মানে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো খাতে ঝুঁকি সুরক্ষা অনুপস্থিত থাকা। এতে বিনিয়োগ ব্যয় বাড়বে, উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরকারের চাপ বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে এটি রাজস্ব, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    সবশেষে বলতে হয়, বীমা খাত সংস্কার না করা মানে শুধু একটি খাতকে অবহেলা করা নয়, বরং অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্তম্ভকে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে তোলা। এ অবহেলার মূল্য ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও সমাজ, উভয়কেই অনেক বেশি দিতে হতে পারে। সূত্র: বণিক বার্তা

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির পরবর্তী চ্যালেঞ্জ

    February 3, 2026
    মতামত

    বাংলাদেশে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত রূপান্তর প্রয়োজন

    February 3, 2026
    মতামত

    নির্বাচনে সাংবাদিকতার মান কেমন হওয়া উচিত?

    February 3, 2026
    Leave A Reply Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইরাকে নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ, শাস্তির ভয় সবার মনে

    আন্তর্জাতিক August 4, 2025

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক October 30, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত January 13, 2025

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি October 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.