দেশের অর্থনীতির বর্তমান চিত্রটি গভীর উদ্বেগের। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ঋণের প্রবাহ যে পর্যায়ে নেমেছে, তা গত দুই দশকের মধ্যে নজিরবিহীন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এখন ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন—ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে যা দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.১ শতাংশে। একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং শিল্পায়নের স্থবিরতার এক বিপৎসংকেত।
অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের হার এবং ঋণের অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প সম্প্রসারণ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। মনে রাখতে হবে, বেসরকারি খাতে গতি না ফিরলে টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অন্যদিকে, মুদ্রানীতির নীতিগত সামঞ্জস্যহীনতা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।
এই সংকটময় মুহূর্তে নতুন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরাতে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং ব্যাবসায়িক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ব্যবসায়ীরা এখন আর কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং বিনিয়োগ সুরক্ষার বাস্তব নিশ্চয়তা চান।
একই সঙ্গে ব্যবসা সহজীকরণ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকিং খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে ঋণপ্রবাহ সচল না করলে ক্ষুদ্র ও বড় কোনো উদ্যোক্তাই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে সাহসী হবেন না।
আমরা আশা করি, নতুন সরকার একটি সমন্বিত ও টেকসই অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করবে, যেখানে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা হবে মূল ভিত্তি। অর্থনীতিকে টেনে তুলতে হলে বেসরকারি খাতকে সারথী হিসেবে নিয়ে পথ চলার কোনো বিকল্প নেই।
লেখক : সভাপতি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)

