নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেছেন। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবং দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দেশের অর্থনীতি ছিল মূলত স্থবির। বিনিয়োগেও আশাজাগানিয়া কোনো খবর ছিল না। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান সবখানেই বিরাজ করছিল স্থবিরতা।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে নতুন সরকারের করণীয় ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন।
কয়েক বছর ধরে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করছে। আস্থা সংকটে ভুগছেন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। নতুন সরকারের প্রতি তাঁদের প্রথম চাওয়া একটাই—আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও পরে কিছু কর্মকাণ্ডে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের আস্থা কমে যায়। ফলে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে।
গতকাল দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের সঙ্গে প্রথম প্রত্যাশা জড়িত—উদ্যোক্তাদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। ব্যবসায়ীরা জানেন, সরকারের সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন যা দেখাবে সরকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
একজন উদ্যোক্তার ভাষায়, “ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, ‘Morning shows the day’। সরকারকে শুরু থেকেই তার প্রতিফলন দেখাতে হবে। আমরা বেআইনি সুবিধা চাই না, চাই নিয়মকানুনের সুষ্ঠু প্রয়োগ। প্রশাসনিক লালফিতার কারণে কোনো সিদ্ধান্ত আটকে যাবে না, আবার ব্যক্তিভেদে ব্যত্যয় ঘটবে না।”
ব্যবসা-বাণিজ্যকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা যায় না। প্রকৃত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের রাজনৈতিক আনুগত্য থাকে না। তারা সব সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা চালায়। ব্যবসায়িক সুসম্পর্ক মানে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়। অতীতে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে বিভিন্ন দল বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেকেই পিছিয়ে গেছে। নতুন সরকারকে এই ধারা পরিবর্তন করতে হবে। ব্যবসায়ীদের উপর যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে হবে।
বর্তমান শিল্পকারখানা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে ভুগছে। উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে এই সমস্যার সাময়িক সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এমন পদক্ষেপ হতে পারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি বা বিকল্প ব্যবস্থা। যদিও স্থায়ী সমাধান সময়সাপেক্ষ, তবে তা আগামী প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।
দেশের উদ্যোমী জনগোষ্ঠী ও উদ্যোগী উদ্যোক্তাদের শক্তি কাজে লাগানোর জন্য সরকারের করণীয় শুধু সমস্যার সমাধান করা। তখন বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন শিল্প স্থাপনে এগিয়ে আসবেন। বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। তাই ব্যবসায়ীরা চাই বিনিয়োগ-বাণিজ্যের জন্য উন্নত পরিবেশ এবং যেসব বাধা আছে, তা দূর করার কার্যকর পদক্ষেপ। দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশে গতিশীলতা ফেরানো কোনো বিকল্প নেই।

