বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন পেশাদার হিসাববিদ ও ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার ব্যাংকখাত সংস্কারে কতটা আন্তরিক—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম রায়হান।
গতকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল আর্থিক নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান নয়। এটি দেশের ব্যাংকগুলোর প্রধান নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা।

তার ভাষায়, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যবসায়িক পটভূমির কাউকে বসানো হলে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একজন ব্যবসায়ীর স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি বাজার ও করপোরেট স্বার্থের দিকে ঝুঁকতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের ব্যাংকখাত ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মতো জটিল সমস্যায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, পেশাগত স্বাধীনতা এবং শক্ত নিয়ন্ত্রক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে তিনি মনে করেন।
নতুন নিয়োগ প্রত্যাশা পূরণ করবে, নাকি সংস্কারের গতি থামিয়ে দেবে—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে বলে মন্তব্য করেন সেলিম রায়হান। তার প্রশ্ন, দেশ কি আবার সেই পুরোনো বাস্তবতায় ফিরছে, যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার চেয়ে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়?
তিনি সরকারের কাছে দ্রুত ব্যাখ্যা চেয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যাংকখাত সংস্কারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

