ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক চ্যালেঞ্জ এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জরুরি এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। অর্থাৎ, দেশের অর্থনীতিকে নাজুক অবস্থার হাত থেকে মুক্তি দেওয়াই প্রথম লক্ষ্য।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা অপরিহার্য। রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে রফতানি আয়ের বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া প্রবাসী আয়ও বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে আরও মজবুত করা সম্ভব। বিদেশে থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণ সহজ ও নিরাপদ করা এবং লেনদেন ব্যবস্থাকে ঝামেলামুক্ত করা সরকারের নজরদারিতে রাখা উচিত।
অর্থনীতির আরেকটি বড় সমস্যা হলো ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম এবং তীব্র তারল্য সংকট। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। এভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও সহায়তা প্রদান করাও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা জোরদার করা জরুরি।
অর্থনীতিকে গতিশীল করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করে শ্রমখাতকে উৎপাদনমুখী করা সম্ভব। যদিও এসব বিনিয়োগের সুফল দীর্ঘমেয়াদি, তবু এর প্রভাব স্থায়ী এবং দৃশ্যমান হয়। দক্ষ জনশক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করলে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।
সবশেষে, নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি হলো জনগণের আস্থা অর্জন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি। এই দুইয়ের সমন্বয়ই দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ও গতিশীল করে তুলবে।
- আককাস মাহমুদ: সাবেক পরিচালক, এফবিসিসিআই

