নতুন গভর্নর দায়িত্ব নিচ্ছেন এক কঠিন সময়ে। তাঁর সামনে রয়েছে দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতকে স্থিতিশীল ও শৃঙ্খলিত করার বড় চ্যালেঞ্জ। এই কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজন হবে দক্ষতা, পেশাদারি ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তিনি শুরু থেকেই এই দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারি ও দৃঢ়তার সঙ্গে সামলাবেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নতুন গভর্নর ঋণের সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেবেন। ব্যাংকারদের পক্ষ থেকেও সুদহার কমানোর আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা কিছুটা জটিল। বর্তমানে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতা হলো সরকার। যেখানে সরকার ১০ শতাংশ বা তার বেশি সুদে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ ধার করছে, সেখানে ব্যাংকগুলোর পক্ষে ঋণের সুদহার কমানো সহজ নয়। এখন কিছু ব্যাংক আমানত সংগ্রহে ১১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কম সুদে ঋণ দেওয়াই কঠিন।
অনেকে মনে করেন, উচ্চ সুদহার বিনিয়োগ বাড়ানোর পথে প্রধান বাধা। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি একমাত্র সমস্যা নয়। বিনিয়োগকারীরা প্রথমে বিবেচনা করেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরসহ অবকাঠামোর প্রস্তুতি। সেগুলো নিশ্চিত হওয়ার পরই অর্থসংক্রান্ত বিষয় আসে। বর্তমান সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি, অবকাঠামো সংকটই ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রধান বাধা। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীর আগমনও থমকে যাচ্ছে। তাই বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রথমে অবকাঠামো সমস্যার সমাধান জরুরি। তারপর ঋণের সুদহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কাজ করা যেতে পারে।
বিশ্ববাজারেও চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুর কারণে রপ্তানি কমেছে। এই অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে নতুন গভর্নরকে। ব্যাংক খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও প্রয়োজনে কঠোর বার্তা প্রদান করাও তার দায়িত্ব। পুরোনো শক্তির চাপে সংস্কার শিথিল হলে খাত আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
পেশাদারি ও দক্ষতা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি সংস্থা থেকে শুরু করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে এখনো অনেক জায়গায় পেশাদারি অভাব দেখা যাচ্ছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নতুন গভর্নরের দায়িত্ব হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে সমগ্র আর্থিক খাতকে পেশাদারভাবে পরিচালিত করা।
এছাড়া উচ্চ ঋণ খেলাপি এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাও তার সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন গভর্নরের দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে।

