যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন তদন্তে উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের নাম এসেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাম আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ খান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি দেখে মনে হচ্ছে, তারা খতিয়ে দেখবে ১৬ দেশের কোথাও অন্যায্য চর্চা, শ্রম অধিকার লঙ্ঘন, পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে অতিরিক্ত প্রণোদনা প্রদান বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন হচ্ছে কি না। যদি এসবের প্রমাণ মেলে, তারা হয়তো বাড়তি শুল্ক আরোপ করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তিকর। তবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ নেই। দেশে মেধাস্বত্বের চর্চা এখনও সীমিত। মার্কিন বাজারে আমাদের পণ্যের উপস্থিতি খুব ছোট। শ্রম অধিকারের ইস্যু আমরা ইতিমধ্যে মীমাংসা করেছি। পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা সীমিত। কৃষিতে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে হয়তো প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেও কৃষিতে প্রণোদনা দেয়। আমাদের সরকার শুধু সার প্রণোদনা দেয়।”
মাহমুদ হাসান খান মন্তব্য করেন, “যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত নিজেদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এই তদন্ত শুরু করেছে। তাদের ভোক্তা বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে বাংলাদেশের নাম আসাটা যৌক্তিক নয়, কারণ আমাদের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। মার্কিন ব্যবসায়ীরা এই ধরনের পোশাক কখনও উৎপাদন করবে না।”
তিনি সরকারের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “যেহেতু আমাদের নাম তদন্তে এসেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। যাতে আমরা বিষয়টি দক্ষভাবে মোকাবিলা করতে পারি।”
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বুধবার এই তদন্তের ঘোষণা দেন। তথ্যটি গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারার আওতায় এই তদন্ত করা হচ্ছে।
তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদন কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না, এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না।
বাংলাদেশসহ যে ১৫টি দেশের নাম এসেছে, তারা হলো চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।

