দেশের জ্বালানি খাত আবারও অস্থিরতায় ঘেরা। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, রেশনিং ব্যবস্থা, শিল্পখাতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে নীতি ও প্রস্তুতির।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, সীমিত মজুত ও হঠাৎ আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। তারা বলছেন, শুধু তাত্ক্ষণিক সমাধান নয়, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত মজুত ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও এর সমাধান নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, শিল্পখাতের কার্যক্রম অটুট রাখতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।
প্রশ্ন: বর্তমান সময়ে দেশের জ্বালানি খাতে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, এর প্রধান কারণগুলো কী বলে আপনি মনে করেন?
ড. ইজাজ হোসেন: আমাদের যেহেতু দিন আনি দিন খাই এর মতো অবস্থা, তিনদিন কাজ না পেলে না খেয়ে থাকতে হয়। দেশে ডিজেল আমদানি করে আনার পর খালাস করে ট্যাংকারে রাখা হয়। যেদিন থেকে ক্রাইসিস ফিল করা হলো, বিপিসি সারাদেশের সব ট্যাংকারের হিসাব দিয়ে বললো যে, ১৪ দিনের তেল মজুত আছে। এই খবরটা সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। এটার জন্যই একটা গোলমাল হয়েছে। এই প্যানিক হওয়ার কারণে দুদিনেই চারদিনের তেল বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর সরকার রেশনিংয়ের ব্যবস্থা শুরু করলো। এরপরে বিরাট অরাজকতা আরম্ভ হলো, পেট্রোল পাম্পে লাইন পড়ে গেলো।
রেশনিংয়ের একটা সুবিধা আছে। তখন তেল ছিল সাতদিনের। এটি রেশনিং করলে ডিপো থেকে দেওয়া হলো অর্ধেক তেল। এভাবে সাত বা আটদিনের তেল দিয়ে চৌদ্দ বা পনেরো দিন চালানো সম্ভব। এভাবে তো একটা সুবিধা পাওয়া গেলো। এরপর ভারত থেকে তেল এলো, আমরা একটু স্বস্তি পেলাম। এখন সরকার বলছে যে, আমি এই মাসটা চালিয়ে যেতে পারবো। কারণ, ১৭ তারিখের পরেই ফুয়েল কনজাম্পশন হাফ হয়ে যাবে। এখন বৈশ্বিক রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনায় নিতে হবে। যদি জাহাজগুলো আটকে যায় তাহলে এপ্রিল থেকে আবার সংকট শুরু হতে পারে।
প্রশ্ন: ব্যবসায়ীরা বলছেন, জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না। শিল্পখাতের ওপর এই জ্বালানি সংকটের প্রভাব কতটা গুরুতর হতে পারে?
ড. ইজাজ হোসেন: কারখানা শ্রমিকরা পাঁচ থেকে ছয়দিনের ছুটিতে চলে যাবে। ১৭ মার্চ থেকে এ সমস্যাটা চলে যাবে। ইন্ডাস্ট্রি যেন তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারে সেজন্য অবশ্যই চাহিদামতো ফুয়েল সাপ্লাই দিতে হবে। কারখানা মালিকরা এমনিই ক্ষতিগ্রস্ত। কারখানায় যদি কাজ করতে না পারে তাহলে শ্রমিকদের বেতন দেবে কীভাবে? এজন্য অবশ্যই এই খাতে নজর দেয়া উচিত।
আমাদের ডিজেলে টোটাল যে কনজাম্পশন তাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল খুবই কম। এটা সরকারের মানসিকতা যে, আমি দিচ্ছি না, দেবো না। তাদের চাহিদা তো কম, তাহলে দেবে না কেন? এটার কারণে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমি দেশের নীতি নির্ধারকদের একটি কথা বোঝাবার চেষ্টা করছি, আমাদের দেশে ডিজেল কনজাম্পশন এক্সট্রিমলি হাই। এখন একটা ফুয়েলের ওপরে থাকা উচিত না। আমাদের অন্য ফুয়েলে শিফট করা উচিত। আমরা করেছি, কিছুটা সিএনজিতে গেছে। এটি আরও করা উচিত।
প্রশ্ন: বর্তমান সংকট কাটাতে স্বল্পমেয়াদে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন?
ড. ইজাজ হোসেন: এসব সংকটকালীন সময়ে শর্ট টাইমে আসলে তেমন কিছুই করার থাকে না। আমাদের স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই, সেটা যদি ১৫ দিনের থাকতো! এটা ধরা হবে না, আমাদের যতকিছুই হোক, এই ১৫ দিনের রিজার্ভ আছে। তাহলে কিছুই হতো না। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সময় থেকে আমরা এটা বলে আসছি কিন্তু এটা করা হয়নি। সূত্র: জাগো নিউজ

