লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে এপিএমের পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রশ্ন নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া ও মিডল ইস্টের প্রধান নির্বাহী জোনাথন গোল্ডনার।
প্রশ্ন: লালদিয়ায় কেন ৫৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ?
আমাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করেছে, যা এখানে বিনিয়োগের জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অসাধারণ। দেশটির রপ্তানি ভিত্তি বেশ বৈচিত্র্যময় ও স্থিতিস্থাপক। দ্বিতীয়ত, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়ের সঙ্গে আমাদের পরিকল্পনা সামঞ্জস্যপূর্ণ—যা নতুন বাণিজ্যের সুযোগ খুলে দেবে এবং এ রূপান্তরের সর্বোচ্চ সুফল পেতে প্রয়োজন হবে সেরা মানের অবকাঠামো। তৃতীয়ত, সংস্কার এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রতি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
বাজার চাহিদার সঙ্গে যখন নীতিগত গতিশীলতা ও একটি গ্রিনফিল্ড মডেলের মাধ্যমে আমাদের আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চাগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার মতো কাঠামো যুক্ত হয়, তখন বিনিয়োগের যৌক্তিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ, বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি তার গুরুত্ব প্রমাণ করে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে মূল্যবান কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য যে স্থিতিশীলতা দরকার, তা নিশ্চিত হয়।
প্রশ্ন: এপিএম টার্মিনালসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের প্রধান সূচকগুলো কী হবে?
বিস্তারিত পারফরম্যান্স কাঠামো ব্যবসায়িক গোপনীয়তার বিষয় হলেও আমরা সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর ক্যাটাগরি নিয়ে কথা বলতে পারি, যা এপিএম টার্মিনালসের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে: পরিচালন ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা মানদ মান বজায় রাখার অঙ্গীকার, জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম (পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগের সময়), টার্মিনালে কনটেইনার থাকার সময়কাল, সরঞ্জামের প্রাপ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা, আমাদের ‘নেট জিরো’ প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স এবং গ্রাহক সন্তুষ্টির সূচকসমূহ।
প্রশ্ন: স্বপ্রণোদিত (আনসলিসিটেড) প্রস্তাব প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, সে বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?
এপিএম টার্মিনালস সুশাসন ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখে। বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি টার্মিনালে আমাদের প্রমাণিত সাফল্যের রেকর্ড রয়েছে, যা বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আমাদের নৈতিক ও স্বচ্ছভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতির নির্দেশক। এই অংশীদারিত্বগুলো নিশ্চিত করে যে, আমরা যেসব দেশে কাজ করি সেখানে সঠিক বিনিয়োগ হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াটি লজিস্টিকস প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা দেয়, যা বাণিজ্যের উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত জিটুজি কাঠামো কিংবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামো কোনোটিই অভিনব কিছু নয়। বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়, এমন জটিল অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বিশ্বজুড়েই এরকম পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে জিটুজি সমঝোতা স্মারকটি সই হয়েছে ২০২১ সালে, আর এপিএম টার্মিনালস এই আলোচনায় যুক্ত হয়েছে ২০২৪ সালে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়ে চুক্তির উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার ও কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বছরের পর বছর ধরে বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের যাচাই-বাছাই করেছে।
পিপিপিতে স্বচ্ছতার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি বাণিজ্যিক খুঁটিনাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। এর অর্থ হলো, প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত হবে, শর্তাবলি জনস্বার্থ রক্ষা করবে এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এই কনসেশন চুক্তিতে সুস্পষ্ট পারফরম্যান্স বাধ্যবাধকতা, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তদারকি এবং পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন: বর্তমান বন্দর সক্ষমতার বাইরে এপিএম টার্মিনালস বাড়তি কী বাস্তব সুফল বয়ে আনবে?
এপিএম টার্মিনালস বিশ্বজুড়ে ৬০টিরও বেশি বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনা করে। বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ২০২৫ সালের সর্বশেষ কনটেইনার পোর্ট পারফরম্যান্স ইনডেক্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ ২০টি বন্দরের মধ্যে ১০টিই পরিচালনা করছে এপিএম টার্মিনালস—যা বিশ্বের অন্য যেকোনো টার্মিনাল অপারেটরের চেয়ে বেশি। ব্যাপকভাবে বলতে গেলে, আমাদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা এমন পরিচালনগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে চাই, যা বিশ্বজুড়ে অন্যান্য বন্দর ও টার্মিনালের পারফরম্যান্সের মান বাড়িয়েছে।
অবকাঠামোগত যেসব উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন দেখা যাবে তার মধ্যে রয়েছে—
সরঞ্জাম ও অবকাঠামো: বর্তমানে যেখানে সর্বোচ্চ ২,৭০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারে, সেখানে ভবিষ্যতে ৬,০০০ টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতার জাহাজ প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। বড় জাহাজ মানেই বেশি ধারণক্ষমতা, উচ্চ উৎপাদনশীলতা এবং অধিক দক্ষতা—যার সবকিছুই ব্যয় সাশ্রয়ী প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। এছাড়া, বাংলাদেশের বন্দর ইকোসিস্টেমে ৮ লাখের বেশি টিইইউ বাড়তি সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার ফলে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের সঙ্গে এই অবকাঠামোর তাল মিলিয়ে চলা নিশ্চিত হবে।
সরবরাহ চেইনে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: বৈদ্যুতিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও শোর-পাওয়ার-রেডি সিস্টেম (যা জাহাজকে সরাসরি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেবে)—এই সবকিছুই কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করবে।
নেটওয়ার্কের প্রভাব: আমাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক জাহাজের শিডিউলের নির্ভরযোগ্যতা ও সেবার মান নিশ্চিত করে। এর ফলে জাহাজ চলাচলের সময়সূচি অনুমানযোগ্য হয়, উৎপাদনকারীদের ইনভেন্টরি খরচ কমে আসে এবং ফাস্ট ফ্যাশনের মতো সময়-সংবেদনশীল বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে।
নিরাপদ পরিবেশ: আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানই নির্ধারণ করে দেয় যে আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহন সংস্থা ও পণ্যের মালিকরা আপনার বন্দর ব্যবহার করবে কি না। আমরা বিশ্বজুড়ে শিপিং লাইন, ফ্রেট ফরোয়ার্ডার ও পণ্যের মালিকদের কাছে তাৎক্ষণিক বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করি।
প্রশ্ন: সুনির্দিষ্ট কোন প্রযুক্তিগুলো লালদিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম প্রকৃত ‘গ্রিন পোর্ট’-এ পরিণত করবে?
এপিএম টার্মিনালসের একটি বৈশ্বিক লক্ষ্য হলো ২০৪০ সালের মধ্যে এর কার্যক্রম থেকে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে (নেট জিরো) নামিয়ে আনা। লালদিয়া নিয়ে আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলো একে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রথম জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও স্বল্প-নিঃসরণকারী টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলা—যা নেট-জিরো নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। লালদিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসারে ডিজাইন ও পরিচালনা করা হবে।
এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে থাকবে: বৈদ্যুতিক কার্গো হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম, টার্মিনালের অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন এবং শোর-পাওয়ার-রেডি সিস্টেম, যার মাধ্যমে জাহাজগুলো গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবে।
এই পদক্ষেপগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ, শব্দদূষণ ও বায়ু দূষণ কমাবে—যা কর্মচারী, আশপাশের জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের জন্য উপকারী হবে। আমাদের বৈশ্বিক কার্যক্রমজুড়ে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক অপারেশন ও এর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমাদের দৃঢ় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রশ্ন: ৬,০০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার জাহাজ ভেড়ানোর সক্ষমতা চট্টগ্রামের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে কীভাবে বদলে দেবে?
বর্তমানে ২,৭০০ টিইইউ-এর সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের পণ্যবাহী কনটেইনারগুলোকে ছোট ফিডার ভেসেল-এ করে কলম্বো, সিঙ্গাপুর বা অন্যান্য আঞ্চলিক হাব হয়ে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে সরবরাহ চেইনে অতিরিক্ত ৭ থেকে ১৪ দিন অতিরিক্ত সময় লাগে, ডাবল হ্যান্ডলিংয়ের কারণে খরচ বাড়ে এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
৬,০০০ টিইইউ পর্যন্ত সক্ষমতা তৈরি হলে চট্টগ্রাম বন্দর এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মধ্যে চলাচলকারী আধুনিক ও বড় জাহাজগুলোকে সেবা দিতে পারবে। এর অর্থ হলো, ছোট ফিডার জাহাজের ওপর নির্ভর না করে প্রধান প্রধান শিপিং অ্যালায়েন্সের জাহাজগুলো এখানে সরাসরি নোঙর করতে পারবে। বাংলাদেশের রফতানিকারকদের জন্য, বিশেষ করে পোশাক খাতে—যেখানে ‘লিড টাইম’ (পণ্য তৈরির পর পৌঁছানোর সময়) প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নির্ধারণ করে—এটি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এতে লজিস্টিকস খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং পণ্য সরবরাহের পূর্বাভাসযোগ্যতা বাড়বে।
প্রশ্ন: ৫০০ অপারেশনাল কর্মসংস্থানের বাইরে আপনারা কীভাবে অর্থবহ প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করবেন?
বিশ্বের যে প্রান্তেই আমরা বন্দর বা টার্মিনাল পরিচালনা করি না কেন, আমাদের কাজের ধরন ও মানদণ্ড সর্বদা একই থাকে। অর্থাৎ আমরা একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে আধুনিক কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারি। এটি করার পাশাপাশি আমরা সমাজের ভালো প্রতিবেশীও হয়ে উঠতে চাই। সেজন্য আমরা বর্তমান প্রজন্মের বন্দর কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেব, যারা ভবিষ্যতে আরও অনেক বন্দর পরিচালনা করতে পারবেন।
আমরা দুটি উপায়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সুবিধা তৈরির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনা করি। প্রথমটি হলো প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান এবং অন্যটি হলো পরোক্ষ (সেকেন্ডারি) কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সাধারণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা।
প্রশ্ন: মায়ের্স্ক-এর শক্তিশালী বাজার বিবেচনায় স্বার্থের সংঘাত নিয়ে যে উদ্বেগ আছে, সেটি আপনারা কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
এপি-মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের অধীনে সম্পূর্ণ স্বাধীন ব্যবসায়িক ইউনিট হিসেবে কাজ করে এপিএম টার্মিনালস। আমরা কোনো বৈষম্য ছাড়াই সব শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার ও পণ্য মালিকদের সেবা দিয়ে থাকি। এটি আমাদের ব্যবসায়িক মডেল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাধ্যবাধকতার একটি মৌলিক অংশ।
প্রকৃতপক্ষে, বিভিন্ন জাহাজ কোম্পানিকে প্রতিযোগিতামূলক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে টার্মিনালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই আমাদের স্বার্থের অনুকূল। কাউকে বিশেষ সুবিধা দিলে সেটি আমাদের ব্যবসায়িক সাফল্য ও সুনাম উভয়কেই ক্ষুণ্ন করবে। শিপিং লাইনগুলো সেবার মান, নির্ভরযোগ্যতা ও খরচের ওপর ভিত্তি করে টার্মিনাল বেছে নেয়—আমাদের পরিচালনাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে আমরা এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করি।
প্রশ্ন: ২০৩০ সাল এবং এরপর লালদিয়া কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটাবে বলে আপনি আশা করেন?
এর তাৎক্ষণিক প্রভাব হবে লজিস্টিকস বা কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশের রফতানি খাতের সরবরাহ চেইনের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি। দীর্ঘমেয়াদে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাংলাদেশের রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে। লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের কনটেইনার বাণিজ্যে ৮ লাখেরও বেশি টিইইউ সক্ষমতা যুক্ত হবে। রপ্তানি শক্তিশালী হওয়ার অর্থ হলো—সমগ্র সমাজে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আরও কর্মসংস্থান এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠা।
প্রশ্ন: ২০৩০ সালের মধ্যে যথাসময়ে ডেলিভারি নিশ্চিত করতে কী কী সুরক্ষা ব্যবস্থা (সেফগার্ড) রয়েছে? দেরি হলে বা খরচ বেড়ে গেলে সেই ঝুঁকি কে বহন করবে?
লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পটি একটি যৌথ উদ্যোগ—যা ডিজাইন, বিল্ড, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেট মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই মডেল অনুযায়ী, টার্মিনাল তৈরির জন্য ব্যবহৃত জমির মালিকানা দেশেরই থাকবে। আর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর আমরা ৩০ বছরের জন্য টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হবো।
এই যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় অংশীদার কিউএনএস-এর পাশাপাশি এপিএম টার্মিনালস হলো প্রধান অংশীদার। তাই টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত কোনো আয় না হওয়ার ঝুঁকি এপিএমকেই নিতে হচ্ছে। কাজেই যেকোনো বিলম্ব সরাসরি আমাদের মুনাফাকে প্রভাবিত করবে।
আমরা এ-ও পুনর্ব্যক্ত করতে পারি যে, বিশ্বজুড়ে আমাদের সুনাম বড় বড় প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করে। লালদিয়া এই অঞ্চলে আমাদের জন্য একটি ‘শোকেস‘ হবে। এখানে আমরা দেখাতে চাই, কীভাবে বেসরকারি পুঁজি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সরকারি নীতিমালার দূরদর্শী সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে এবং সঠিক মান বজায় রেখে রূপান্তরমূলক অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব। এই ফলাফলের ওপর আমরা আমাদের ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের পুঁজি বাজি রেখেছি। তাই বাংলাদেশ নিঃসন্দেহে আমাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারে যে আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব।
লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে এপিএমের পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রশ্ন নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া ও মিডল ইস্টের প্রধান নির্বাহী জোনাথন গোল্ডনার। সূত্র: মিজানুর রহমান ইউসুফের নেওয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর সাক্ষাৎকার

