সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিদরা বলছেন, এ বছর আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি, শাবানের ২৯তম দিনে রমজানের চাঁদ দেখা যাবে না। কিন্তু ওইদিন সৌদি আরব চাঁদ ওঠার ঘোষণা দিতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই
আমিরাতের জ্যোতির্বিদদের চাঁদ না দেখতে পারার তথ্যটি জল্পনা তৈরি করেছে, এবার সৌদির ঘোষণাকে মেনে নিয়ে দেশটি রমজান শুরুর তারিখ ঘোষণা নাও করতে পারে। এবার তাদের মধ্যে এ নিয়ে ‘বিচ্ছেদ’ ঘটতে পারে।
সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আই বলেছে, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রায় বেশ কিছ বছর ধরেই সৌদি জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী রমজান শুরুর তারিখ ঘোষণা করছে। তারা সরাসরি চাঁদ দেখছে না। এমনও হয়েছে বিজ্ঞানীরা বলেছেন চাঁদ কোনোভাবেই দেখা যাবে না; তাও সৌদি রমজানের ঘোষণা দিয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক হলেও সৌদির সরকার এগুলোকে ‘পাত্তা’ দেয় না।
সৌদির উম-আল-কুরা নামে একটি ক্যালেন্ডার আছে, সেটি অনুযায়ীই তাদের তারিখ ঘোষণা করতে দেখা যায়। এই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর সৌদিতে রমজানের প্রথমদিন হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব গণণে দেখা মিলবে রমজানের অর্ধচন্দ্রের।
কিন্তু আমিরাতের শারজাহ জ্যোতির্বিদ্যা অ্যাকাডেমি, শারজাহ মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গত সপ্তাহে জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা ‘অসম্ভব’। এমনকি প্রযুক্তি ব্যবহার করেও চাঁদের দেখা মিলবে না বলে জানিয়েছে তারা।
শারজাহর এ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দিয়েছে প্রথম রমজান হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি।
অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, চাঁদ উঠুক আর না উঠুক, সৌদি ১৭ ফেব্রুয়ারিই রমজান শুরুর ঘোষণা দেবে।
সাধারণত সৌদি এমন ঘোষণা দিয়ে আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো সেটি মেনে তারাও চাঁদ ওঠার ঘোষণা দেয়।
এ বছর আমিরাত কি করবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে কূটনৈতিক টানপোড়েন চলছে তা সত্ত্বেও সৌদির ঘোষণা ফলো করবে আমিরাত।
ওই অঞ্চলের দেশ ওমান ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি চাঁদ দেখা যাবে না। ফলে সেখানে ১৯ ফেব্রুয়ারি রজমান শুরু হবে।

