পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর ছুটির আবহে দেশের পুঁজিবাজারে গতি কমেছে। লেনদেনের দিনসংখ্যা কমে যাওয়ায় সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও পড়েছে স্পষ্ট প্রভাব। গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সীমিত থাকায় বাজারজুড়ে দেখা গেছে মিশ্র কিন্তু নিম্নমুখী প্রবণতা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহজুড়ে সূচকের পতন ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্ট। একইভাবে ব্লু-চিপ কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ১৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট।
ফলে সূচকটি নেমে এসেছে ২ হাজার ৫১ পয়েন্টে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস সামান্য বেড়ে ১ হাজার ৮০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা বাজারে সীমিত ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
ঈদের ছুটির কারণে পুরো সপ্তাহে মাত্র দুই কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। রোববার বাজারে পতন দেখা গেলেও সোমবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় সূচক। তবুও সামগ্রিক চিত্রে লেনদেন কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সপ্তাহজুড়ে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৪০২ কোটি টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৫৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাত লেনদেনে শীর্ষে ছিল। মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ এসেছে এই খাত থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত, যার অংশ ১৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। বস্ত্র খাত ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এরপর প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ লেনদেন দখল করেছে।
তবে রিটার্নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ খাতেই ছিল নেতিবাচক প্রবণতা। বিশেষ করে মিউচুয়াল ফান্ড, জীবন বিমা, ব্যাংক, সাধারণ বিমা ও পাট খাত বেশি চাপের মুখে ছিল। অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন, বস্ত্র, চামড়া এবং সিমেন্ট খাতে ইতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে দশমিক ৩৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৩০ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকও সামান্য বেড়ে ৯ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। মোট ২১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১২২টির দর বেড়েছে, ৬৩টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ঈদের ছুটির কারণে লেনদেন কমে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে সাময়িক স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। তবে সীমিত সময়ের লেনদেনেও কিছু খাতে ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার আভাস দিচ্ছে।

