পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক এক উত্থানের নজির তৈরি করেছে বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড।
দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এই কোম্পানির শেয়ারদর মাত্র দুই মাসে প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। এতে স্বল্প সময়ে বিপুল মুনাফার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাজার বিশ্লেষকেরা সতর্ক করছেন বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ জানুয়ারি কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল মাত্র ৩৭ পয়সা। এরপর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতিতে ১৬ মার্চ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ টাকা ৯০ পয়সায়। অর্থাৎ দুই মাসে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৫৩ পয়সা, যা প্রায় ১০ দশমিক ৫৪ গুণ বৃদ্ধি।
এই অস্বাভাবিক উত্থানের ফলে স্বল্প সময়ে বড় অঙ্কের মুনাফার হিসাব সামনে এসেছে। বাজার বিশ্লেষণ বলছে, কেউ যদি ১৪ জানুয়ারি ১০ লাখ টাকার শেয়ার কিনে থাকেন, তবে দুই মাস পর তার বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এতে নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ৯৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তবে এই চিত্রের বিপরীতে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকির বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শেয়ারের এমন দ্রুত উত্থান সত্ত্বেও ১৬ মার্চ পর্যন্ত ডিএসই পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। অথচ এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ শেয়ারটির দাম ছিল ৫ টাকা ৯০ পয়সা, যা নেমে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দাঁড়ায় ৩৭ পয়সায়।
কোম্পানির আর্থিক অবস্থাও খুব শক্তিশালী নয়। সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ৭১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই লোকসান ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে।
লভ্যাংশের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা নেই। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি নগদ লভ্যাংশ দিলেও এরপর থেকে টানা লোকসানের কারণে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ২২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার রয়েছে ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার।
বিশ্লেষকদের মতে, অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির এমন প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও। বিশেষ করে যারা উচ্চ দামে নতুন করে বিনিয়োগ করছেন, তারা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

