ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হলেও শুরুটা হয়েছে হতাশাজনক। লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমে যায়। এর প্রভাবে প্রধান সূচকেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
আজ সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে দেখা যায়, ২৫৫টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। বিপরীতে দর বেড়েছে ৭৭টি কোম্পানির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টি শেয়ারের দাম। বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৯ পয়েন্ট কমে ৫২৯৪ পয়েন্টে নেমে আসে। বাজারের এই আচমকা পতন বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছেও কিছুটা অপ্রত্যাশিত বলে জানা গেছে।
ব্রোকারেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক খবর থাকা সত্ত্বেও দেশীয় বাজারে এমন পতন বিস্ময় তৈরি করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও তেল স্থাপনায় সাময়িক হামলা না করার ঘোষণা দেন। তার এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমে যায়। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার বড় শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের মাধ্যমে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছে তারা।
বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও দেশীয় বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগে টানা কয়েকদিন শেয়ারবাজারে দর বাড়ার কারণে ছুটি শেষে অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায় এবং দরপতন ঘটে। আরও একটি কারণ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আস্থা কম থাকায় সামান্য দর বাড়লেই অনেকেই শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট ১৪০ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসের একই সময়ের তুলনায় ১৩ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনে এগিয়ে ছিল মোবাইল অপারেটর রবি এবং সী পার্ল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। এই দুই কোম্পানির প্রায় ৭ কোটি টাকা করে মোট ১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া ইনটেক অনলাইন, শাইনপুকুর সিরামিক, একমি পেস্টিসাইডস ও সিটি ব্যাংকের শেয়ারও ৩ থেকে ৬ কোটি টাকার মধ্যে লেনদেন হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদের পর প্রথম দিনে শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। বরং মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা ও আস্থার সংকট মিলিয়ে বাজারে নেতিবাচক চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

