মধ্যপ্রাচ্যে এক মাস ধরে চলা উত্তেজনা, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং ইরানের পাল্টা জবাবের প্রভাব পড়েছে, তা বিশ্ব পুঁজিবাজারে চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্ট; বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার কারণে পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেন কমেছে।
তারপরও, মার্চ মাসের শুরু থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। শেয়ারদরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এগুলো হলো:
- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড – ১১৮.৭৫% বেড়েছে। শেয়ারদর বেড়ে ১.৬০ টাকা থেকে ৩.৫০ টাকায়।
- প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড – ১০০% বেড়েছে। শেয়ারদর বেড়ে ১.৮০ টাকা থেকে ৩.৬০ টাকায়।
- ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড – ৯৪.১২% বেড়েছে। শেয়ারদর বেড়ে ১.৭০ টাকা থেকে ৩.৩০ টাকায়।
- এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড – ৮৮.২৩% বেড়েছে। শেয়ারদর বেড়ে ১.৮০ টাকা থেকে ৩.৬০ টাকায়।
অন্যদিকে, বাজারে তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানির শেয়ারদর এই সময়ে কমেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আগেই মুনাফা কমার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন লাভজনক কোম্পানির শেয়ারদর কমছে, তখন অবসায়নমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি হয়তো বাজার কারসাজির কারণেই ঘটেছে।
এ বিষয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, অর্থনীতির মন্দা ও ২০২৫ সালের কঠিন পরিস্থিতির কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক ২০টি দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে, যার মধ্যে নয়টিকে অবসায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়। এক খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে রূপান্তর বা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেলে পুরো খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়া স্বাভাবিক।

