শেয়ারবাজারে দর পতনের থামার নাম নেই। সর্বশেষ ৯ দিনের মধ্যে আট দিনই সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ৯৪ শতাংশ শেয়ারের দর কমেছে।
গত মঙ্গলবার সামান্য দরবৃদ্ধি বাজারের পতন ঠেকাতে পারেনি। বরং গতকাল, বুধবার, ডিএসইতে লেনদেন ২০ সপ্তাহ পর ফের ২০০ কোটি টাকার নিচে নেমেছে।
ডিএসইতে ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ৩৫০টির কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭২টির দর কমেছে। ৫১ কোম্পানির দর বেড়েছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত ৩৭ মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র একটির দর বেড়েছে, বাকি ২৭টির দর কমেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৭ পয়েন্ট কমে ৪,৮২৫ পয়েন্টে নেমেছে।
গত ৯ কার্যদিবসের হিসাব দেখাচ্ছে, ৩৬০ কোম্পানির মধ্যে ৩৩৮টির দর কমেছে। এর মধ্যে ৫৩ কোম্পানির শেয়ারের দর ২০-৩৯ শতাংশ কমেছে। আরও ১৩৭টির দর ১০-২০ শতাংশ কমেছে। মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও একই অবস্থা; ৩৭ ফান্ডের মধ্যে ৯টির দর ২০ শতাংশের বেশি কমেছে।
দর পতনের ফলে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই বিনিয়োগের সামর্থ্য হারাচ্ছেন। লেনদেন ক্রমে কমছে। ৭ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে একদিনে ১,৪৪১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল। গতকাল তা নেমেছে মাত্র ২৯০ কোটি টাকায়। ৩৫০ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে শীর্ষ ২০ কোম্পানিরই ৪৫ শতাংশ লেনদেন হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বাজেটে কিছু নীতি-প্রণোদনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সাময়িক আশার সঞ্চার করেছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। তবে তা দুই মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি। আগস্টের প্রথম থেকে ফের দর পতন শুরু হয়েছে, যা এখনও চলছে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা, ১৩ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নামে দায়ের করা মামলার রায়, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি এবং শহরে নাশকতামূলক ঘটনা বিনিয়োগকারীদের ভীত করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগযোগ্য অর্থ কম। বড় বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অবস্থা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে নিশ্চিত নয়। ফলে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। তিনি বলেন, অনিশ্চিত পরিবেশে বিনিয়োগ হয় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখন শূন্যের নিচে। দর পতনের সময়ে অনেকেই শেয়ার বিক্রি করছেন, ফলে অবস্থা আরও সংকটাপন্ন।
ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক নাশকতা সংকটকে গভীর করছে। নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ছাড়া স্থিতিশীলতা আসবে বলে মনে হয় না। একের পর এক কোম্পানি ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করছে। বড় বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে থাকায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত।
খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৯ দিনে বীমা খাতের ৫৮ কোম্পানির শেয়ারের গড়ে দর কমেছে পৌনে ১৭ শতাংশ। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ১১ কোম্পানির শেয়ারও ১৬ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

