দেশের পুঁজিবাজার কয়েক বছর ধরেই বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে আসছে। ২০২৫ সালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বাজার মূলধন বেড়েছিল কিন্তু ২০২৫ সালে তা কমেছে। বছরের শেষে এসব কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন ১৮ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
পুঁজিবাজারে ১৩টি বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ছাড়া বাকি সব কোম্পানির বাজার মূলধন কমেছে। ২০২৪ সালে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত বাজার মূলধন ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৬৭০ কোটি টাকায়।
সর্বোচ্চ পতন:
-
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড – ৩২.৪ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৪২৪ কোটি টাকায়, ২০২৪ সালে ছিল ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা।
-
লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড – ২৬.৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৪২ কোটি টাকায়, ২০২৪ সালে ছিল ১ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।
-
সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড – ২৫.৪ শতাংশ কমে ৮৪৩ কোটি টাকায়, ২০২৪ সালে ছিল ১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা।
-
রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ পিএলসি – ২১.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬১৮ কোটি টাকায়, ২০২৪ সালে ছিল ২ হাজার ৫৫ কোটি টাকা।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য পতন:
-
গ্রামীণফোন লিমিটেড – ২০.২% কমে ৩৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা।
-
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড – ১৯.৬% কমে ৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা।
-
ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড – ১৫.৬% কমে ৪ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।
-
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ পিএলসি – ১৩.৪% কমেছে।
-
বাটা সু কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড – ১১.২% কমেছে।
-
আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ লিমিটেড – ৩.১% কমেছে।
-
হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ পিএলসি – ২.৪% কমেছে।
-
রবি আজিয়াটা পিএলসি – ০.৪% কমেছে।
বর্ধনশীল একমাত্র কোম্পানি:
-
ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড – ১৭.১ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৪২১ কোটি টাকায়, ২০২৪ সালে ছিল ৭ হাজার ১৯১ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এই বড় পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

