গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি থাকলেও সামগ্রিক বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন প্রায় ২ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বেড়ে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দাম সূচক ও দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণও বাড়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭৭টির দাম কমেছে এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দাম কমার তালিকায় একটি প্রতিষ্ঠান বেশি হলেও বাজারের সমষ্টিগত মূলধন বেড়েছে। মূলধনের পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচকও ঊর্ধ্বমুখী। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৮৭.৯৪ পয়েন্ট বা ১.৭৯ শতাংশ। এর আগের সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল মাত্র ২৭.০৪ পয়েন্ট বা ০.৫৫ শতাংশ।
অপর দুটি সূচকের মধ্যে, ইসলামি শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ৪.৮০ পয়েন্ট বা ০.৪৮ শতাংশ। এর আগে এটি কমেছিল ২.৬৭ পয়েন্ট বা ০.২৬ শতাংশ। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচকও ৪৫.৫২ পয়েন্ট বা ২.৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে এটি কমেছিল ১৩.১৩ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ।
লেনদেনের গতিও গত সপ্তাহে বাড়েছে। সপ্তাহের প্রতিটি কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৭৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৩৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার তুলনায় ১২০ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ৩৩.৯৩ শতাংশ বেশি।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪.৮৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার, যা গড়ে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে সিটি ব্যাংক, যার গড়ে লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ছিল উত্তরা ব্যাংক, ফাইন ফুডস, সায়হান কটন, মালেক স্পিনিং, লাভেলো আইসক্রিম, যমুনা ব্যাংক এবং সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।

