দেশের পুঁজিবাজারে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল সূচকে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। নতুন বছরে এখন পর্যন্ত একদিনে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দরপতন। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক এদিন ১ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে। নতুন বছরের প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিনই সূচক ছিল নিম্নমুখী। এর আগে ৫ জানুয়ারি সূচক কমেছিল দশমিক ২০ শতাংশ। ৬ জানুয়ারি কমেছিল দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। তবে গতকাল পতনের মাত্রা ছিল এক শতাংশেরও বেশি।
লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে বিক্রির চাপ ছিল। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৪০ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ছিল ৪ হাজার ৯৯৯ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ কমেছে ১৮ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট। দিন শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৯৬ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে তা ছিল ১ হাজার ৯১৫ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস কমেছে ১১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট। এতে সূচকটি নেমে এসেছে ৯৯৯ পয়েন্টে। আগের দিন ছিল ১ হাজার ১১ পয়েন্ট।
গতকালের সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সিটি ব্যাংকের শেয়ার। ডিএসইতে গতকাল মোট ৪১২ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৪২৯ কোটি ১১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৮টির। দর কমেছে ৩১৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির শেয়ারদর।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারের ক্যাটাগরি পরিবর্তন নিয়ে গুজব, দেশজুড়ে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারের সামগ্রিক মনোভাবে। ফলে সূচক নেমে গেছে।
খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। এই খাতের দখলে ছিল ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন। বস্ত্র খাত ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল। প্রকৌশল খাতের লেনদেনের অংশ ছিল ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৯ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করে।
ডিএসইতে গতকাল সব খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে রিটার্ন কমেছে ২ শতাংশ। সাধারণ বীমা, কাগজ ও মুদ্রণ এবং সিরামিক খাতে নেতিবাচক রিটার্ন ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স ৭৩ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে। সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১১৬ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট। এতে সূচকটি নেমে এসেছে ১৩ হাজার ৮৭৭ পয়েন্টে।
সিএসইতে গতকাল লেনদেন হওয়া ১৫৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির। দর কমেছে ৯২টির। অপরিবর্তিত ছিল ২১টির শেয়ারদর। এদিন সিএসইতে ৪ কোটি ৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ১২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

