সূচকের ইতিবাচক গতিতে বিদায়ী সপ্তাহে দেশের পুঁজিবাজারে স্বস্তির বার্তা মিলেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম—দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচক বেড়েছে। এর প্রভাবে বাজার মূলধনেও এসেছে উল্লেখযোগ্য উত্থান। তবে লেনদেন ও ক্ষুদ্র মূলধনি শেয়ারের গতিবিধি বলছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফেরেনি।
ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি—এই এক সপ্তাহে দুই পুঁজিবাজার মিলিয়ে মোট বাজার মূলধন বেড়েছে ৯ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। যদিও লেনদেনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। ঢাকায় লেনদেন সামান্য বেড়েছে, বিপরীতে চট্টগ্রামে কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহজুড়ে সূচকের শক্ত অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটিয়ে সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে। বড় মূলধনি কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ এবং শরিয়াহ সূচকেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনি কোম্পানির সূচক ডিএসএমইএক্সে পতন দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার মূলধনের দিক থেকেও ডিএসইতে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়ায় প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচিত শেয়ারে ক্রয়চাপ এবং ধীরে ধীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার কারণেই এই উত্থান।
লেনদেনের চিত্রেও ঢাকায় হালকা ইতিবাচকতা দেখা গেছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেশি। এ সময়ে ৩৮৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক কোম্পানির দর বেড়েছে। দুই শতাধিক কোম্পানির দর কমেছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থাকায় বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকে ঊর্ধ্বগতি বজায় ছিল। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই সপ্তাহ শেষে ১৪ হাজার পয়েন্টের ওপরে উঠে আসে। পাশাপাশি সিএসই-৩০, সিএসসিএক্স ও সিএসআই সূচকেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এখানেও এসএমই সূচকে সামান্য পতন হয়েছে, যা ছোট মূলধনি শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের অনীহার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজার মূলধনের হিসাবে চট্টগ্রামের উত্থান ছিল তুলনামূলক বেশি। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। তবে সূচক বাড়লেও লেনদেন কমে যাওয়ায় বাজারে পূর্ণ আস্থা ফেরার বিষয়টি এখনো প্রশ্নের মুখে।
বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের তুলনায় যা প্রায় ১৪ কোটি টাকা কম। এ সময়ে ২৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৩টি কোম্পানির দর বেড়েছে। ১২৯টির দর কমেছে। বাকিগুলোর দর অপরিবর্তিত ছিল।
সব মিলিয়ে সূচক ও বাজার মূলধনের উত্থান পুঁজিবাজারে ইতিবাচক বার্তা দিলেও লেনদেনের গতি এবং এসএমই সূচকের দুর্বলতা ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরতে এখনো কিছুটা সময় লাগতে পারে।

