দেশের শেয়ারবাজারে টানা দুই কার্যদিবস উত্থানের পর গত মঙ্গলবার খাতভিত্তিক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ব্যাংক ও বিমা খাতে দরপতন হলেও বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের শেয়ারে বাড়তি আগ্রহ বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ কেড়েছে। এসব খাতের ইতিবাচক পারফরম্যান্সে বাজারের প্রধান সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের শুরুতে অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাংক ও বিমা খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারে বিক্রির চাপ বাড়ে। এর ফলে সূচক একপর্যায়ে নিম্নমুখী হয়। পরিস্থিতি সামাল দেয় বস্ত্র ও প্রকৌশল খাত। এসব খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি দিনের শেষ পর্যন্ত বাজারে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।
দিন শেষে ডিএসইতে মোট ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দাম। ব্যাংক খাতের তালিকাভুক্ত ৩১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ১৮টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। বিমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৯টির দর বেড়েছে। ৪৮টির দর কমেছে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে প্রকৌশল খাতে চিত্র ছিল উল্টো। এ খাতের ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ৩০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। কমেছে ৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩টির। বস্ত্র খাতেও অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। এখানে ৪১টির দর বেড়েছে। কমেছে ৯টির এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
লভ্যাংশ বিবেচনায় ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ২০৯টি কোম্পানির মধ্যে ৭৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ১১০টির দর কমেছে এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৩টির কমেছে এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও দরবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এ শ্রেণির ১০৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। ২০টির দাম কমেছে এবং বাকি ২০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ১১টির ইউনিট দাম বেড়েছে। ৬টির কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬৬ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০। বাছাই করা শীর্ষ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৭৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবুও টানা দুই কার্যদিবস বাজারে ৭০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ১২ লাখ টাকার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ২০ কোটি ১০ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং। শীর্ষ ১০ তালিকায় আরও রয়েছে ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ব্র্যাক ব্যাংক, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সিটি ব্যাংক।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৯ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ৬৫টির কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম।

