আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নে দলটির স্পষ্ট পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে পুঁজিবাজার সংস্কার, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং করণীয় বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারি ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডিবিএ সভাপতি বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনৈতিক দল পুঁজিবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে এই খাতের সংস্কার ও উন্নয়ন নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারকে এমন গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি। ডিবিএ দীর্ঘদিন ধরে সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক, সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। বিএনপির ইশতেহারে সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করে সংগঠনটি।
ডিবিএর আশা, ইশতেহারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। বাজারের সামগ্রিক গতিশীলতাও বাড়বে।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহারেও পুঁজিবাজার সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইশতেহারে শেয়ারবাজারে সব ধরনের অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আস্থাহীনতা দূর করে বাজারকে গতিশীল ও কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারে পুঁজিবাজার বিষয়ে এসব প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ডিবিএ। রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারি এক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ধন্যবাদ জানান। তিনি দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডিবিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, এই প্রথম রাজনৈতিক দলগুলো পুঁজিবাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংস্কার ও উন্নয়ন নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহারেও পুঁজিবাজার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ডিবিএর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
ডিবিএ মনে করে, ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে। বাজারে আস্থা ফিরবে এবং পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হয়ে উঠবে।

