সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। লেনদেনের বেশির ভাগ সময় দরপতন চললেও শেষ দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বস্ত্র খাতের শেয়ারে কিছুটা দাপট দেখা যায়। তবে তা সূচকের পতন ঠেকাতে পারেনি। দিন শেষে কমেছে সূচক ও লেনদেন দুটিই।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে।
ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পরপরই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে শুরু করে। এর প্রভাবে বাজারের প্রধান সূচক দ্রুত ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ডিএসইএক্স সূচক ১৯ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়।
এরপর লেনদেনের শেষ ভাগে বস্ত্র ও আর্থিক খাতের শেয়ারে কিছুটা গতি আসে। এ দুই খাতের বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। তবে অন্য খাতের অধিকাংশ শেয়ার দরপতনের ধারা বজায় রাখে। ফলে দিন শেষে দর বাড়া ও কমার সংখ্যা সমান থাকলেও সূচকের পতন এড়ানো যায়নি।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১৬২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। একই সংখ্যক ১৬২টির দাম কমেছে। আর ৬৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৯টির শেয়ার দর বেড়েছে। ৩টির দর কমেছে। ১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বস্ত্র খাতে ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। ১১টির দর কমেছে। ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৯টির শেয়ার দর বেড়েছে। বিপরীতে ৯৪টির দর কমেছে। ৩৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানির মধ্যে ২৭টির দর বেড়েছে। ৩৯টির দর কমেছে। ১৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৬টির শেয়ার দর বেড়েছে। ২৯টির দর কমেছে। ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮টির দর বেড়েছে। ১৫টির দর কমেছে। ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
সূচকের হিসাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৫ পয়েন্টে। ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনও কমেছে। এদিন বাজারটিতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৮৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ১০৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কে অ্যান্ড কিউ। কোম্পানিটির লেনদেন ১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য কোম্পানি হলো ইসলামী ব্যাংক, মুন্নু ফেব্রিক্স, লাভেলো আইসক্রিম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ব্র্যাক ব্যাংক, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
ডিএসইতে এদিন লেনদেনে অংশ নেয় ৩৯৩টি কোম্পানি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি পেয়েছে কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩৪ টাকা ৯ পয়সা বা ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।
দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান। তহবিলটির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা মুন্ন অ্যাগ্রো অ্যান্ড জেনারেল মেশিনারি লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৭ দশমিক ১২ শতাংশ।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো মুন্নু ফেব্রিক্স, সামিট পাওয়ার, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এবং মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। তহবিলটির শেয়ার দর শূন্য দশমিক ৫ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দর কমেছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে দশমিক ৩৮ শতাংশ।
দরপতনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, রিলায়েন্স ওয়ান দ্য ফার্স্ট স্কিম, সুরিদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ভিএফএস থ্রেড ডাইং, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৪৮ পয়েন্ট কমেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেয় ১৬৮টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৬৬টির দাম বেড়েছে। ৭২টির দাম কমেছে। ৩০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দিন শেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল ৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

