ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন তৎপরতা বেড়েছে, তেমনি প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শেয়ারবাজারও। তপশিল ঘোষণার পর থেকে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে সূচক ও লেনদেন—যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর থেকে চলতি মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় দুই মাসে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৩৬ পয়েন্ট, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৮ দশমিক ৮। এই সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ২৩৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, আর কমেছে ১০৭টির।
ঢাকা ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, এই উত্থান পুরোপুরি প্রত্যাশিত ছিল। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বেই। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাড়বে—এই প্রত্যাশাই বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী করছে।
তিনি বলেন, “নতুন সরকার এলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে, অর্থনীতিতে গতি ফিরবে এবং শেয়ারবাজারের গুরুত্ব আরও বাড়বে—এই আশাই বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে।”
তবে শুরুতে বাজারে এতটা প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়নি। তপশিল ঘোষণার পরও এক মাস পর্যন্ত অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন না যে নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না। ফলে প্রত্যাশিত উত্থান তখন দেখা যায়নি। কিন্তু ভোটের দিন যত ঘনিয়ে এসেছে, ততই সূচক ও লেনদেনে স্পষ্ট ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, তপশিল ঘোষণার পর থেকে ৩৯ কর্মদিবসের মধ্যে ২১ দিন বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল, আর ১৮ দিন সূচক কমেছে। উত্থান হওয়া দিনগুলোতে মোট প্রায় ৭৮২ পয়েন্ট বেড়েছে সূচক, বিপরীতে পতনের দিনগুলোতে কমেছে প্রায় ৩৪৬ পয়েন্ট।
ফেব্রুয়ারির প্রথম সাত কার্যদিবসের মধ্যেই সূচক বেড়েছে ২৮৩ পয়েন্ট, যার বড় অংশই এসেছে শেষ দুই দিনে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে সবচেয়ে বেশি উত্থান ঘটেছে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। ব্যাংক খাতের সব ৩১টি সক্রিয় কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে গড়ে প্রায় ১৬ শতাংশ। বীমা খাতে ৫৮টির মধ্যে ৫০টির দর বেড়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে গড় বৃদ্ধির হার প্রায় ১২ শতাংশ।
এ ছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট, চামড়া ও টেলিযোগাযোগ খাতেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে প্রকৌশল ও সিরামিক খাতে তুলনামূলকভাবে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে।
শুধু সূচক নয়, লেনদেনেও ফিরেছে গতি। মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭৯০ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখে শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক প্রবাহ তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

