ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের শেয়ারবাজারে আজ রোববার বড় উত্থান দেখা দিয়েছে। লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দর বেড়েছে এমন শেয়ারের সংখ্যা কম পড়েছে যেসব শেয়ারের দর কমেছে তার তুলনায় প্রায় ১৪ গুণ। এর প্রভাব পড়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সে, যা একদিনে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে পৌঁছেছে। অন্য সূচকগুলোও ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া প্রায় পাঁচ মাস পর লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময়ের পর দেশের পরিচালনা আবার দলীয় সরকারের অধীনে আসছে। এর ফলে বহির্বিশ্ব থেকে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পথ খুলবে, যা শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নির্বাচিত সরকারের শেয়ারবাজারের গুরুত্ব বাড়ানোর আশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি করেছে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এই উত্থান ২০২৪ সালের আগস্টের পরবর্তী ক্ষণস্থায়ী মুভমেন্টের মতো হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা আনার জন্য ব্যাংকিং সেক্টরের সুদহার কমানো প্রয়োজন।
মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশেকুর রহমান বলেন, “আজকের মুভমেন্ট দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হবে বলে মনে হচ্ছে না। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর কয়েক দিনের উত্থানের মতো এটি সম্ভবত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতা মাত্র। যতদিন ব্যাংকিং সেক্টরে উচ্চ সুদ থাকবে, ততদিন বাজারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নতি দেখা কঠিন। সুদ কমলেই শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে।”
লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে ৩৬৪টি কোম্পানি ও ইউনিটের শেয়ারের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ২৬টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০১ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৭ পয়েন্টে উঠেছে, আর ডিএসই-৩০ সূচক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
লেনদেনে আজকের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল সিটি ব্যাংকের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। ঢাকা ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার, আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৯ লাখ টাকার। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ টাকা, যা গত মঙ্গলবারের চেয়ে ৪৮৫ কোটি টাকা বেশি।
মো. আশেকুর রহমান বলেন, “শেয়ারবাজারের মুভমেন্ট সবসময় ফান্ডামেন্টাল দ্বারা হয় না, সেন্টিমেন্টাল প্রভাবও অনেক সময় বেশি। আজকের উত্থান কয়েকদিন পর স্থির হয়ে যাবে।”
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও সূচকগুলো বাড়ছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৫১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ২৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৫৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। ২৪৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২০টির দর বেড়েছে, ১৭টির কমেছে এবং ১০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
ডিএসই পরিচালক মো. শাকিল রিজভী বলেন, “আগামী কয়েকদিন বাজার ভালো থাকবে। তবে এই উন্নতি স্থায়ী করতে হলে নতুন ও শক্তিশালী কোম্পানির শেয়ার এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি জরুরি। আইপিও আনা ও সুশাসন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।”
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “নতুন সরকার শেয়ারবাজারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে বাজার স্থিতিশীল হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ায় বিনিয়োগকারীর আস্থা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে।”

