সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মূল্যসূচকের নেতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ করেছে। এদিন মোট ২৩৮টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। লেনদেনের টাকার পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোটের আগে দুই দিন ও ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা উত্থানের কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নেওয়ার জন্য বিক্রি শুরু করেছে। এ কারণে মঙ্গলবার বাজারে দাম কিছুটা সংশোধিত হয়েছে।
দিনজুড়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। কখনো দাম ঊর্ধ্বমুখী, পরেই দরপতন, এমন লেনদেনের ধারা বজায় ছিল। তবে দিনের শেষে বিক্রির চাপ বেশি থাকায় দরপতন দিয়ে লেনদেন সমাপ্ত হয়েছে।
বিক্রির চাপ থাকা সত্ত্বেও ক্রেতার অংশগ্রহণ ছিল সক্রিয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে রেকর্ড হয়েছে। টানা তিন কার্যদিবস ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার লেনদেনের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। দরের দিক দিয়ে দিনশেষে সব খাত মিলিয়ে ১৩১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বেড়েছে, ২৩৮টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দরের দিকের বিশ্লেষণ:
- ভালো কোম্পানি বা ১০% বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ৫৯টির দাম বেড়েছে, ১৩৭টির কমেছে এবং ১২টির অপরিবর্তিত।
- মাঝারি মানের বা ১০% এর কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৮টির দাম বেড়েছে, ৪২টির কমেছে, ১০টির অপরিবর্তিত।
- লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে থাকা ৪৪টির দাম বেড়েছে, ৫৯টির কমেছে এবং ৫টির অপরিবর্তিত।
- তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৪টির দাম বেড়েছে, ২৭টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত।
মূল সূচকের পরিস্থিতি:
- প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৮ পয়েন্ট কমে ৫,৫৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
- ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ১,১১৭ পয়েন্টে।
- বাছাই করা ৩০ কোম্পানির ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ২,১২৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লেনদেন করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (৪৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা), এর পরে এসিআই (৩৪ কোটি ৬৩ লাখ) ও সিটি ব্যাংক (৩১ কোটি ৮৯ লাখ)। এছাড়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, মুন্নু ফেব্রিক্স, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস ও কে অ্যান্ড কিউ।
দরের বড় বৃদ্ধি:
-
শীর্ষে এবি ব্যাংক পিএলসি (+৯.৫২%)
-
দ্বিতীয় কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ লিমিটেড (+৭.৭৫%)
-
তৃতীয় অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি (+৭.৭০%)
দরের শীর্ষ ১০-এ আরও আছে সোনারগাঁও টেক্সটাইল, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, এসিআই ফর্মুলেশনস, আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং স্যালভো অর্গানিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
বড় পতন:
-
শীর্ষে বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (-৯.২৫%)
-
দ্বিতীয় ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস (-৯.০৯%)
-
তৃতীয় রিং মাইডাস ফাইন্যান্স পিএলসি (-৮.৯৫%)
দরের শীর্ষ ১০-এ আরও আছে হামিদ ফেব্রিক্স, জাহিন স্পিনিং, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, সাইফ পাওয়ারটেক ও গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্য শেয়ারবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তে সার্বিক সূচক (সিএএসপিআই) ১৩ পয়েন্ট কমেছে। ২৩১ কোম্পানির মধ্যে ৯৪টির দাম বেড়েছে, ১১০টির কমেছে এবং ২৭টির অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার তুলনায় বেড়েছে।

