দেশের পুঁজিবাজারে জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব স্পষ্ট। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স রেকর্ড ২০১ পয়েন্ট বৃদ্ধি দেখিয়েছে। তবে তার পরের চার কার্যদিবসে সূচক কিছুটা কমেছে এবং এ সময়ে মোট ১৩৪ দশমিক ৭৩ পয়েন্টের পতন হয়েছে। সবশেষ মিলিয়ে, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স ১.২২ শতাংশ উত্থান দেখিয়েছে।
এক্সচেঞ্জের দৈনিক গড় লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ৬৪.৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫০ কোটি ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায়, যেখানে আগের সপ্তাহে তা ছিল ৬৩৮ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬৫.৯৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৩৮.৯৩ পয়েন্ট, যা ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস সামান্য কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৩টির, কমেছে ১৫৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৩টির। লেনদেন হয়নি ২৪টির। সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক।
গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। মোট লেনদেনের ২০.৬২ শতাংশ ব্যাংক খাতের। ওষুধ ও রসায়ন খাত দ্বিতীয় স্থানে (১৬.৩১%), বস্ত্র খাত তৃতীয় (১০.২১%), সাধারণ বীমা খাত চতুর্থ (৮.৩১%) এবং প্রকৌশল খাত পঞ্চম (৭.৯৫%) অবস্থানে রয়েছে।
সপ্তাহের লেনদেনের ফলাফলে অধিকাংশ খাত ইতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। কাগজ ও মুদ্রণ খাত সর্বোচ্চ ৫.২৫ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন দেখিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রিটার্ন ৩.৩০% এবং সিরামিক খাতের ৩.১৬%। অন্যদিকে, পাট খাত সর্বোচ্চ ৩.০৪% নেতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। করপোরেট বন্ড ও টেলিযোগাযোগ খাতও সামান্য নেতিবাচক রিটার্ন দেখিয়েছে।
দেশের আরেকটি বড় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-র সূচক সিএএসপিআই সপ্তাহের ব্যবধানে ২.০৯% বেড়ে ১৫,৩৪৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সিএসসিএক্স সূচক ১.৬৯% বৃদ্ধি পেয়ে ৯,৪৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে সিএসইতে ৯৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের সপ্তাহে তা ছিল ২৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ৩২২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৫টির, কমেছে ৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টির।

