সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ইন্টারনেটের দাম দ্রুত বাড়ায় সাধারণ গ্রাহকরা উদ্বেগে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের সব মোবাইল অপারেটরকে এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনা ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করতে হবে, তারা ডেটা প্যাকেজের দাম কমাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে একাধিক বৈঠকের পর গত বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ডিসেম্বর ও এই মাসের শুরুতে অপারেটরদের সঙ্গে ডেটার দাম কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।
বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক সভাপতিত্বে বৈঠকে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে ডেটা ট্যারিফ কমানোর জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে ডেটার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ভাইস চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, “ডেটার দাম বাড়ার ফলে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় মোবাইল অপারেটরদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে দাম কমাতে হবে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও সতর্ক করেন, “যদি অপারেটররা কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
অপারেটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডেটার দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হলো পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি। মূল্যস্ফীতি, নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তবুও তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ডেটার দাম কমানোর উপায় খুঁজে বের করতে কাজ চলছে এবং বিটিআরসির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার জন্য পৃথক বৈঠকেরও আবেদন করেছেন।
রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন, “ডেটার দাম পর্যালোচনা অবশ্যই স্বচ্ছ ও বাস্তব ব্যয় বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হতে হবে। এতে সিদ্ধান্তগুলো টেকসই ও খাতের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সহায়ক হবে। গত ২৪ মাসে আমাদের আয় কমেছে, অথচ ডেটার দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আরও দাম কমালে অপারেটররা আর্থিক চাপে পড়তে পারে। এতে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সেবার মান উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগও কঠিন হয়ে যায়।”
সাহেদ আলম আরও সতর্ক করেন, স্বল্পমেয়াদি বা ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ পুরো খাতকে দুর্বল করতে পারে, সেবার মান কমাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব গ্রাহকদের ওপরই পড়বে।
বিটিআরসির নির্দেশনায় মোবাইল অপারেটরদের প্রতি পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে—এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, তারা গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরপর প্রতিটি অপারেটরের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করে কমিশন বাস্তব পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করবে।

