ঢাকার রাস্তায় বাসে ওঠার যুদ্ধ দৈনন্দিক জীবনের একটি পরিচিত দৃশ্য। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী কিংবা অন্য যাত্রী—সবার জন্যই গণপরিবহনে ওঠা যেন এক ধরনের পরীক্ষা। তবে একজন নারীর জন্য এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটি ভয়—হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা। ভিড়ের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ, আপত্তিকর আচরণ, ধাক্কাধাক্কি কিংবা চালক-সহকারীর দুর্ব্যবহার—সব মিলিয়ে গণপরিবহন অনেক নারীর জন্য স্বস্তির বদলে সৃষ্টি হয় ভয়ানক আতঙ্ক।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ‘পিংক বাস সার্ভিস’ নিঃসন্দেহে একটি প্রয়োজনীয় ও মহৎ উদ্যোগ।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। চালক, কন্ডাক্টর ও সহকারী হিসেবে নারীদের রেখে শুধু নারী যাত্রীদের জন্য এ সেবা চালু করা হয়েছে। রাজধানীতে ১০টি এবং বগুড়া ও চট্টগ্রামে আরও চারটি—মোট ১৪টি বাস দিয়ে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। ঢাকায় এসব বাস নয়টি রুটে চলবে এবং মোট ১৩৪টি স্টপেজে সেবা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উদ্যোগটি তাই অভিনন্দন পাওয়ার মতো। কিন্তু এখানেই আসে মূল প্রশ্ন— নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের মতো বড় একটি সমস্যার সমাধানে ১৪টি বাস কি আদৌ যথেষ্ট?
সকল সাধারণ যাত্রীদের কাছে হয়তো উত্তরটি ‘না’ই হবে। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য, ১৪টি বাসকে একেবারে অকার্যকর উদ্যোগ বলার সুযোগ নেই। বরং এটি সফল হবে কি না, তা নির্ভর করবে এই ১৪টি বাসকে সরকার কীভাবে একটি বৃহত্তর গণপরিবহন ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে ব্যবহার করে তার ওপর।
কারণ নারীদের সমস্যা শুধু বাসে ওঠার সুযোগ না পাওয়া নয়। বরং, সমস্যা হলো—
- বাস কখন আসবে?
- কতক্ষণ অপেক্ষা করবে?
- বাসে উঠতে গিয়ে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে?
- গন্তব্যে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে?
- এবং পুরো যাত্রাপথে তিনি কতটা নিরাপদ থাকবেন?
—এই প্রতিটি বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
১০টি বাস, নয়টি রুট—ফ্রিকোয়েন্সিই বড় প্রশ্ন
ঢাকায় পিংক বাসের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ৯টি রুট। এর বিপরীতে বাস রয়েছে ১০টি। অর্থাৎ রুটভিত্তিক হিসাব করলে অধিকাংশ রুটে কার্যত একটি করে বাস চলাচল করবে।
‘নারীদের নিরাপত্তায়’ এখানেই উদ্যোগটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠে।
একটি বাস কোনো রুটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে আবার ফিরে আসতে কত সময় নেবে, সেটি ঢাকার যানজটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। মতিঝিল থেকে মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর কিংবা গাজীপুরের মতো দীর্ঘ রুটে একটি বাস একবার ট্রিপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় নিলে একই বাস দ্রুত আবার যাত্রী পরিবহনে ফিরতে পারবে না।
ফলে একজন নারী যদি সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কোনো স্টপেজে দাঁড়িয়ে পিংক বাসের অপেক্ষা করেন, কিন্তু নির্ধারিত বাসটি যানজটে আটকে থাকে, তখন তাঁর সামনে কার্যত দুটি পথ থাকবে—আরও অপেক্ষা করা অথবা সাধারণ বাসে উঠে গন্তব্যের জন্য যাত্রা শুরু করা।
এই পিংক কালার বাসের সার্ভিসের সাফল্য মূলত এই জায়গাতেই নির্ধারিত হবে।
নারীর জন্য আলাদা বাস থাকা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাসগুলো কত ঘন ঘন পাওয়া যাচ্ছে।
একটি বাস নিরাপদ হতে পারে, চালক ও কন্ডাক্টর নারী হতে পারেন, বাসে সিসিটিভি থাকতে পারে; কিন্তু একজন কর্মজীবী নারীকে যদি প্রতিদিন ৩০-৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে সেই বাসের অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তিনি শেষ পর্যন্ত বিকল্প পরিবহন বেছে নিতে বাধ্য হতে পারেন।
অর্থাৎ পিংক বাসের প্রকৃত কার্যকারিতা মাপতে হবে বাসের সংখ্যা দিয়ে নয়, একটি বাস থেকে আরেকটি বাস পাওয়ার মধ্যবর্তী সময় দিয়ে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে কেন উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ
তারপরও পিংক বাসের সবচেয়ে বড় শক্তি রয়েছে নিরাপত্তার জায়গায়।
বিআরএসি ও বিআরএসি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের গবেষণায় গণপরিবহন ও সড়কে চলাচলকারী নারীদের হয়রানির চিত্র ভয়াবহভাবে উঠে এসেছিল। ওই গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের ৯৪ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন। বাস, হিউম্যান হলার ও সিএনজিতে যাতায়াতকারী নারীদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ হয়রানির শিকার হওয়ার কথা বলেছিলেন। গবেষণায় অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
অর্থাৎ পিংক বাস এমন একটি সমস্যায় হাত দিয়েছে, যার বাস্তব ভিত্তি রয়েছে।
চালক, কন্ডাক্টর ও সহকারী—তিন ভূমিকাতেই নারীদের অংশগ্রহণও এই উদ্যোগকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এতে নারী যাত্রীদের জন্য বাসের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
কিন্তু এখানেও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। পিংক বাস নারীদের নিরাপদ একটি বিকল্প দিতে পারে, কিন্তু পুরো গণপরিবহনকে নারীবান্ধব করে তুলতে পারে না।
কারণ পিংক বাসের বাইরে যে বিপুলসংখ্যক বাস চলাচল করবে, সেগুলোতে নারীরা প্রতিদিনই যাতায়াত করবেন। ফলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হলে শুধু নারী-নির্দিষ্ট বাস বাড়ালেই হবে না, সাধারণ গণপরিবহনেও নিরাপত্তা, নজরদারি, চালক-সহকারীদের প্রশিক্ষণ এবং অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
শুধু ১৪টি বাস দিয়ে কি লাখো নারীর ভোগান্তি কমবে?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে সমস্যাটির আকারের সঙ্গে উদ্যোগটির পরিমাণের তুলনা করতে হবে।
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা বিশাল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াত করেন। এর মধ্যে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী, পোশাকশ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, গৃহকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির নারী রয়েছেন।
এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে ১০টি বাস স্বাভাবিকভাবেই একটি সীমিত সক্ষমতা তৈরি করবে। এখানে ১৪টি বাসকে ‘সমাধান’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটিকে দেখা উচিত ‘একটি পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে।
সরকার যদি এই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে—
- কোন রুটে কত নারী যাত্রী উঠছেন?
- কোন সময়ে চাপ বেশি?
- কতক্ষণ পরপর বাস প্রয়োজন?
- কোন স্টপেজে সবচেয়ে বেশি যাত্রী অপেক্ষা করছেন?
- কত ট্রিপ হচ্ছে?
- কত শতাংশ আসন ব্যবহার হচ্ছে?
—তাহলে পরবর্তী সময়ে বাস্তব চাহিদা অনুযায়ী বাস বাড়ানো সম্ভব।
কিন্তু উদ্বোধনের পর যদি শুধু বাস চালু আছে—এই হিসাবেই সন্তুষ্ট থাকা হয়, তাহলে কয়েক মাস পর এই উদ্যোগও আগের অনেক পরিবহন প্রকল্পের মতো কার্যকারিতা হারাতে পারে।
আগের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা
নারীদের জন্য আলাদা বাসের ধারণা বাংলাদেশে নতুন নয়। আগেও বিআরটিসি নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস পরিচালনা করেছে। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, শুধু ঘোষণা ও উদ্বোধনের মাধ্যমে কোনো পরিবহন সেবা টেকসই করা যায় না।
বাস কম হলে যাত্রী নির্ভরতা তৈরি হয় না। যাত্রী কম হলে পরিচালনাগত যুক্তি দুর্বল হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা কমে যায়, সময়সূচি অনিয়মিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেবাটি অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। তাই এবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে ‘ধারাবাহিকতা’ বজায় রাখা।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, শুধু বাসের সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সেবার মানও উন্নত করতে হবে এবং দুই মাস পর বর্তমান সেবার চেয়ে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সরকার। এই প্রতিশ্রুতিই এখন বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
জ্যামের শহরে পিংক বাসও কি আটকে যাবে?
আরেকটি মৌলিক সমস্যা হলো– ঢাকার ভয়াবহ যানজট।
একটি পিংক বাস নারী যাত্রীদের জন্য যতই নিরাপদ হোক, সেটি যদি সাধারণ বাসের মতো একই সড়কে একই যানজটে আটকে থাকে, তাহলে নিরাপত্তার পাশাপাশি সময়ের ভোগান্তি থেকেই যাবে।
ধরা যাক, একটি বাস মতিঝিল থেকে মিরপুরের দিকে যাচ্ছে। রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের কারণে একটি ট্রিপ শেষ করতেই যদি অস্বাভাবিক সময় লাগে, তাহলে ওই বাসের পরবর্তী ট্রিপও পিছিয়ে যাবে। এতে স্টপেজে অপেক্ষার সময় বাড়বে এবং বাসের প্রকৃত ফ্রিকোয়েন্সি কমে যাবে।
তাই পিংক বাসকে কার্যকর করতে শুধু বাস বাড়ানো যথেষ্ট নয়।
- বাসের জন্য অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা,
- কার্যকর রুট ব্যবস্থাপনা
- এবং সম্ভব হলে নির্দিষ্ট সময়ে অগ্রাধিকার লেন ব্যবস্থার মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় নিতে হবে।
অন্যথায় নতুন বাস পুরোনো জ্যামের মধ্যেই আটকে থাকবে।
অ্যাপ ও রিয়েল-টাইম তথ্যও জরুরি
পিংক বাসে পিওএস মেশিনের মাধ্যমে ই-টিকিটিং চালু হয়েছে। একটি বাসে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংকের ওয়াই-ফাই এবং তিনটি বাসে সিসিটিভিও স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বাসে এসব সুবিধা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
তবে যাত্রীর জন্য আরেকটি প্রযুক্তিগত সুবিধা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে— ‘বাসটি কোথায় আছে, সেটি জানার ব্যবস্থা করা’।
একজন নারী যদি মোবাইল ফোনে দেখতে পারেন তাঁর নিকটবর্তী পিংক বাসটি কোথায় এবং কত মিনিট পর সেটি স্টপেজে পৌঁছাবে, তাহলে তাঁকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।
গণপরিবহনের আধুনিক ব্যবস্থায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ যাত্রীর কাছে শুধু নিরাপদ বাস থাকা যথেষ্ট নয়; সেই বাসের ‘নিশ্চিত ও পূর্বানুমানযোগ্য সেবা’ থাকাও জরুরি।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল ছাড়া বিস্তৃতি কঠিন
বিআরটিসির বহরে নতুন বাস যুক্ত করার পাশাপাশি ২০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যেও নারীদের জন্য বাস রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পিংক বাসের জন্য ১০০টি ইলেকট্রিক ভেহিকল কেনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।
এগুলো আশাব্যঞ্জক।
তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু সরকারি বহরের ওপর নির্ভর করলে প্রয়োজনের তুলনায় বাসের সংখ্যা বাড়ানো কঠিন হতে পারে।
এখানে বেসরকারি বাস মালিকদের নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় যুক্ত করা যেতে পারে। একটি ‘পিংক বাস’ বা নারী-বান্ধব বাসের মানদণ্ড নির্ধারণ করে সেই মান পূরণকারী বেসরকারি বাসকেও একই সেবার আওতায় আনা যেতে পারে।
তাহলে একটি সরকারি প্রকল্প ধীরে ধীরে একটি ‘বৃহত্তর নারী-বান্ধব গণপরিবহন’ নেটওয়ার্কে রূপ নিতে পারে।
আসল সাফল্য কোথায়?
পিংক বাসের সাফল্য শুধু কতজন নারী বাসে উঠলেন, সেটি দিয়ে মাপা উচিত নয়।
সাফল্য মাপতে হবে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে।
- একজন নারী বাসের জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করলেন?
- বাস নির্ধারিত সময়ে এল কি না?
- তিনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারলেন কি না?
- ভাড়া ও টিকিটিংয়ে কোনো সমস্যা হলো কি না?
- হয়রানির অভিযোগ এলে কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলো?
- বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় কতজন নারী শেষ পর্যন্ত সাধারণ বাসে যেতে বাধ্য হলেন?
- এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ছয় মাস বা এক বছর পরও কি একই মানের সেবা থাকবে?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেবে পিংক বাস প্রকৃতপক্ষে একটি সফল গণপরিবহন উদ্যোগ হয়েছে, নাকি এটি কেবল আরেকটি উদ্বোধনী প্রকল্প হিসেবে থেকে গেছে।
পিংক বাস তাই শুধু গোলাপি রঙের একটি বাস নয়। এটি নারীদের নিরাপদ চলাচলের একটি প্রয়োজনীয় বার্তা। নারী চালক ও কন্ডাক্টর যুক্ত করার মাধ্যমে এটি পরিবহন খাতে নারীর অংশগ্রহণেরও একটি নতুন দরজা খুলতে পারে।
কিন্তু বাস্তবতা আরও বড়।
ঢাকার লাখ লাখ মানুষের গণপরিবহন সংকট ১৪টি বাস দিয়ে কমানো সম্ভব নয়। নারীদের নিরাপত্তার সংকটও নয়। তবে এই ১৪টি বাস যদি একটি পরীক্ষামূলক মডেল হয়, এর তথ্য বিশ্লেষণ করে—
- দ্রুত বাসের সংখ্যা বাড়ানো হয়, রুটের ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক করা হয়,
- জ্যামের মধ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়,
- প্রযুক্তির মাধ্যমে বাসের অবস্থান জানা যায়
- এবং সাধারণ গণপরিবহনেও নারীর নিরাপত্তার মানদণ্ড চালু করা হয়।
—তাহলে পিংক বাস একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
অন্যথায় রাজধানীর ব্যস্ত কোনো স্টপেজে একজন নারী যখন ৩০ মিনিট ধরে পিংক বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং দূর থেকে একটি সাধারণ বাস এসে ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যাবে, তখন প্রশ্নটি আবারও ফিরে আসবে— “আমরা কি শুধু একটি নিরাপদ বাস চালু করেছি, নাকি নারীর নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যাতায়াত নিশ্চিত করতে পেরেছি?” এই দুটির মধ্যে পার্থক্যটাই আসলে পিংক বাস উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
- এফ আর ইমরান: সিটিজেন্স ভয়েসের নির্বাহী সম্পাদক।

