দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২৭তম বিসিএসের অতিরিক্ত আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০০৫ সালের ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্য থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা দেশের বিভিন্ন ক্যাডারের শূন্য পদে যোগ দেবেন।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী তাদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার টাকার মধ্যে। নিয়োগপ্রাপ্তদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি চাকরির শুরুতে দুই বছরের শিক্ষানবিশকাল পালন বাধ্যতামূলক থাকবে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানোও যেতে পারে।
প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, বিভাগীয় পরীক্ষা এবং শিক্ষানবিশকাল সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই তাদের চাকরি স্থায়ী হবে। এ সময় চাকরিতে যোগদানের আগে নির্ধারিত অঙ্গীকারনামা ও বন্ড জমা দিতে হবে।
সরকার আরও জানিয়েছে, নিয়োগ কার্যকর হবে পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে। তবে এর ভিত্তিতে কোনো ধরনের আর্থিক বকেয়া সুবিধা প্রদান করা হবে না। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে।নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১৮ মে নির্ধারিত ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে নিয়োগ বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয় এবং পুনরায় ভাইভা নেওয়া হয়। এতে অনেক প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েন, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় গড়ায়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ১ হাজার ১৩৭ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায়ের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৯৬ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হলো, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি জটিল অধ্যায়ের সমাপ্তির পথে অগ্রগতি দেখা গেল।

