পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র গরম, ভ্যাপসা আবহাওয়া ও মাঝেমধ্যে ঝড়-বৃষ্টি একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের পাঁচ বিভাগে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ঈদের আনন্দের পাশাপাশি আবহাওয়া নিয়েও বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ।
রোববার সন্ধ্যায় প্রকাশিত পাঁচ দিনের আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, আগামী বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে দেশের ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, সেটির সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর আর্দ্রতা যুক্ত হওয়ায় আবহাওয়া আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। দিনের বেলায় তীব্র গরম থাকলেও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে অনেক এলাকায় কালবৈশাখীর মতো ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। ঈদের সময়ও একই ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সারাদিন টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি নয়, তবে হঠাৎ দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঈদের নামাজ, কোরবানির প্রস্তুতি কিংবা যাতায়াতের সময় মানুষকে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির আভাস দেওয়া হয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অন্যদিকে দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে এখনো মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালীসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত এই তাপপ্রবাহ পুরোপুরি কমার সম্ভাবনা কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় বৃষ্টি হলেও গরম থেকে পুরোপুরি স্বস্তি মিলবে না। কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা অনুভূতি আরও বাড়তে পারে। ফলে বৃষ্টির পরও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে যেতে পারে।
ঈদকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেছেন। তাই আবহাওয়ার এই পরিবর্তন সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে নদীপথে চলাচলকারী যানবাহনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মে মাসের শেষ দিকে এমন আবহাওয়া বাংলাদেশে খুব অস্বাভাবিক নয়। গ্রীষ্মের তীব্র তাপ আর বর্ষার আগমনী প্রভাব মিলেই এই সময় দেশে এক ধরনের অস্থির আবহাওয়া তৈরি হয়। কখনো তীব্র রোদ, আবার হঠাৎ কালো মেঘ আর ঝড়-বৃষ্টি— এই দুই চিত্রই এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে এবারের ঈদে আবহাওয়া হতে পারে মিশ্র ধরনের। কোথাও বৃষ্টি, কোথাও ঝড়ো হাওয়া, আবার কোথাও তীব্র গরম— সবকিছু মিলিয়েই মানুষকে ঈদের প্রস্তুতি নিতে হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে থাকা এবং যাত্রাপথে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

