টানা দুই কার্যদিবসের দরপতনের পর দেশের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ পুরোপুরি না ফেরায় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক বেড়েছে, যদিও সেখানে দর কমা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই ছিল বেশি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক দিনের টানা পতনের পর কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনায় সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে লেনদেন কমে যাওয়ায় এখনো বড় ধরনের আস্থার সংকট কাটেনি বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কম থাকায় বাজারে স্থিতিশীল গতি তৈরি হচ্ছে না।
মঙ্গলবার লেনদেনের শুরু থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা যায়। দিনশেষে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৭৪টির দাম।
ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কমেছে ৭২টির। মাঝারি মানের কোম্পানির মধ্যেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। তবে দুর্বল ভিত্তির ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে।
দাম বাড়ার প্রবণতা থাকায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২১১ পয়েন্টে। পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ও ডিএসই-৩০ সূচকেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। যদিও সূচকের এই উত্থান বড় ধরনের বাজার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, বাজারে স্থায়ী ইতিবাচক ধারা ফেরাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো জরুরি।
সূচক বাড়লেও লেনদেনে ছিল মন্দাভাব। মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ৫০ কোটি টাকা কম। এ থেকে বোঝা যায়, অনেক বিনিয়োগকারী এখনো পর্যবেক্ষণ অবস্থানে রয়েছেন এবং নতুন বিনিয়োগে সতর্কতা বজায় রাখছেন।
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারে। কোম্পানিটির ২৭ কোটির বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এরপর লেনদেনের শীর্ষে ছিল আরডি ফুড ও এনসিসি ব্যাংক। এছাড়া টেকনো ড্রাগস, লাভেলো আইসক্রিম, মুন্নু সিরামিক, নাভানা ফার্মা ও শাইনপুকুর সিরামিকের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৮২টির, কমেছে ৯২টির। এরপরও সার্বিক সূচক ৩১ পয়েন্ট বেড়েছে। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা দরপতনের পর বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও এখনো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বাজারে আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় সূচকের এই ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

