দেশের পুঁজিবাজারে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো ‘সাজিদা অরেঞ্জ শূন্য কুপন বন্ড’-এর ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে। এই উদ্যোগকে বাজারের বিকল্প অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ সোমবার (১৮ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নিকুঞ্জ কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি সম্পাদিত হয় ডিএসই পিএলসি এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের মধ্যে। এর মাধ্যমে ডিএসইর ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বন্ডটির সাবস্ক্রিপশন কার্যক্রম শুরু করা হয়, যা চলবে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত। এই বন্ডটি ডিএসইর প্ল্যাটফর্মে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া প্রথম বেসরকারি বন্ড হিসেবে বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
বন্ডটির মোট অভিহিত মূল্য ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকার অংশ ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ‘অরেঞ্জ শূন্য কুপন বন্ড’টি ১ বছর, ২ বছর ও ৩ বছরের মেয়াদে বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী মেয়াদ নির্বাচন করতে পারবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসই পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ রাশেদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। তাঁর মতে, অরেঞ্জ বন্ডের মতো উদ্যোগ পুঁজিবাজারে বিকল্প অর্থায়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ রাশেদ হোসেন বলেন, এই বন্ডের মাধ্যমে দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন থিমেটিক বন্ড বাজারের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে, যেখানে সামাজিক প্রভাবের পাশাপাশি আর্থিক রিটার্নের সুযোগও থাকবে।
সাজিদা ফাউন্ডেশনের উপ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, নারীদের জন্য বিনিয়োগভিত্তিক ‘অরেঞ্জ শূন্য কুপন বন্ড’ বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আয় বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।

