সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। লেনদেনের শুরুতে সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও দুপুরের পর বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার কারণে বাজারে আবারও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এ লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। দিন শেষে দর বেড়েছে মাত্র ৮৩টি প্রতিষ্ঠানের। বিপরীতে দর কমেছে ২৫৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫৪টির শেয়ারদর। এর ফলে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ২০৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এদিন শরিয়াহভিত্তিক সূচকও কমেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে ভালো মৌলভিত্তির ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৯৬৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারে সার্বিক নেতিবাচক প্রবণতার কারণে প্রায় সব খাতেই বিক্রির চাপ দেখা যায়।
লেনদেনের পরিমাণেও বড় ধরনের পতন হয়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ৭২৬ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা। বাজারে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতা বেশি থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বিক্রির চাপ ছিল বেশি। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৯টির শেয়ারদর কমেছে। বেড়েছে ৪২টির। একইভাবে মাঝারি মানের কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ শেয়ারও দর হারিয়েছে। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থায় থাকা ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বড় সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে।
মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক চিত্র দেখা যায়নি। তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ফান্ডের ইউনিটদর কমেছে। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নিরাপদ অবস্থানে যেতে চাওয়ায় এ খাতে বিক্রির চাপ বাড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিটির প্রায় ২৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং এবং তৃতীয় অবস্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক। এছাড়া টেকনো ড্রাগস, আরডি ফুড, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, এনসিসি ব্যাংক ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ-এও একই চিত্র দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ৫১ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ১১১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির। এ বাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় অনেক কম।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। একদিকে বড় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান, অন্যদিকে বাজারে নতুন অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ায় সূচক ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। টানা দরপতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।

