বাংলাদেশের তামাক বাজারে আবারও চাপের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উচ্চ করহার, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অবৈধ সিগারেটের বাড়তি প্রতিযোগিতার কারণে বৈধ বাজারে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের সর্বশেষ আয়ের বিশ্লেষণ বলছে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিগারেট বিক্রি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় চৌদ্দ শতাংশ কমেছে। কর-নির্ভর মূল্যবৃদ্ধি এবং সস্তা অবৈধ পণ্যের দিকে ভোক্তাদের ঝোঁক এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
একই সময়ে কোম্পানিটির মোট দেশীয় আয় কমেছে প্রায় দশ দশমিক সাত শতাংশ, আর নিট আয় কমেছে একুশ শতাংশের মতো। করের বোঝা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে আগের বছরের তুলনায় বেশি হারে, ফলে বিক্রি কমার পাশাপাশি প্রকৃত মুনাফার ওপরও চাপ বাড়ছে। সীমিতভাবে ইউনিটপ্রতি আয় কিছুটা বাড়লেও তা মোট ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারেনি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় অদৃশ্য চাপ তৈরি করছে অবৈধ সিগারেট। অনুমান করা হচ্ছে, মোট বাজারের প্রায় পনেরো থেকে আঠারো শতাংশ এখন করবিহীন বা অবৈধ পণ্যের দখলে, যা সরাসরি বৈধ কোম্পানিগুলোর বিক্রিকে প্রভাবিত করছে। কম দামের কারণে নিম্ন আয়ের ভোক্তারা সহজেই এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, ফলে বাজারের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে কোম্পানির অন্যান্য আয়ের উৎসেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক প্রান্তিকে সিগারেট রপ্তানি শূন্য অবস্থায় রয়েছে, আর পাতা রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন থেকেও আয় বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে, যা ব্যবসার সামগ্রিক স্থবিরতার ইঙ্গিত দেয়।
আয় কমলেও ব্যয় বাড়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। পরিচালন ব্যয় প্রায় চল্লিশ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে, যা আয় সংকোচনের বিপরীতে বড় চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ঋণের পরিমাণও দ্রুত বেড়েছে, ফলে নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় চাপ বাড়ছে। মজুত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াও বিক্রির ধীরগতির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি শুধু একটি কোম্পানির আর্থিক চিত্র নয়, বরং দেশের তামাক বাজারে নীতিগত চাপ, অবৈধ প্রতিযোগিতা এবং চাহিদা সংকোচনের একটি বড় ইঙ্গিত। কর বৃদ্ধির ফলে বৈধ বাজার সংকুচিত হচ্ছে, ভোক্তারা সস্তা বিকল্পে ঝুঁকছে, আর অবৈধ পণ্যের উপস্থিতি বাজার কাঠামোকে আরও জটিল করে তুলছে।

