রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানার সঙ্গে আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে ঘটনাস্থলে শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা পৌঁছে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে স্বপ্না আক্তারকে আটক করেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন দুটি আদালতে পৃথক আবেদন করেন। সেখানে সোহেলের জবানবন্দি রেকর্ড এবং স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার সকালে রামিসাকে বাসার বাইরে থেকে ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে আরেক ব্যক্তি ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। পরে ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর প্রমাণ গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন জানান, সোহেলের সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির পরিচয় তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আদালতে পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা দেখতে পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তারসহ মোট তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

