রাহাদ সুমন, বরিশাল প্রতিবেদক—
বরিশালের বানারীপাড়ায় সদর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে নামজারি ও মিসকেসের প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দুই কলেজ শিক্ষকের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘুষের ওই এক লাখ টাকা আদায় করে দিতে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বুধবার (২০ মে) বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের অধ্যাপক আলহাজ মো. আব্দুল কাইয়ুম আকন লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, বানারীপাড়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইয়ুম আকনদের পৈত্রিক মালিকানাধীন সম্পত্তি ওয়ারিশদের নামে তিনটি নামজারির জন্য ৭৫ হাজার টাকা এবং পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা একই কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেনদের ৫/২০২৩-২৪ (১৫০ ধারা) নম্বর মিসকেসের প্রতিবেদনের জন্য ২৫ হাজার টাকা নেন। দুইজনের কাছ থেকে এক হাজার টাকার নোটে মোট এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর বিকেল ৩টার দিকে অফিসে বসে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ওই এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আকবর হোসেন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন।
পরে তারা জানতে পারেন, নামজারির জন্য সরকারি ফি মাত্র ১ হাজার ১৭০ টাকা এবং মিসকেসের জন্য সরকারি কোনো খরচ নেই। ফলে তারা ঘুষের টাকা ফেরত পেতে এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে বানারীপাড়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘ডাহা মিথ্যা’।
বানারীপাড়ার নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশীন নূসরাত বলেন, জেলা প্রশাসক লিখিত অভিযোগের কপি তার কাছে পাঠালে তিনি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে মুঠোফোনে সাড়া না পাওয়ায় এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

