বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত “ইসরায়েল ছাড়া” শর্ত। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সরকার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্টে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে, আর এখন সাধারণ পাসপোর্টেও তা ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–এর সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে পাসপোর্টের ভেতরের ওয়াটারমার্ক ছবিগুলোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকেই পাসপোর্টে একটি বাক্য ব্যবহার করে আসছিল—“এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ছাড়া।” মূলত ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় এবং দেশটিতে ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করতেই এই শর্ত রাখা হয়েছিল।
তবে ২০২০ সালের শেষদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই পাসপোর্ট থেকে সেই লাইনটি সরিয়ে ফেলা হয়। বিষয়টি তখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল।
এখন আবার সেই পুরোনো শর্ত ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এতে সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এখন শুধু সরকারপ্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূরুল আনোয়ার বলেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের বিভাগ থেকে নেওয়া হয়নি, বরং “সর্বোচ্চ পর্যায়” থেকে নির্দেশনা এসেছে। তিনি জানান, কূটনৈতিক পাসপোর্টে এটি ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।
শুধু “ইসরায়েল ছাড়া” শর্তই নয়, পাসপোর্টের ভেতরের বিভিন্ন ওয়াটারমার্ক ছবিতেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন করে যুক্ত হতে যাচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে দু’হাত প্রসারিত অবস্থায় আবু সাঈদের ছবি। পাশাপাশি থাকবে বঙ্গভবন, জামদানি শাড়ি, কাঁঠাল, ইলিশ, আমবাগান, টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলগিরি ও পানাম নগরীর ছবি।
অন্যদিকে বেশ কিছু পুরোনো ছবি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। বাদ পড়ছে ধানমন্ডি ৩২, টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমান–এর সমাধিসৌধ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, মডেল মসজিদ, কান্তজিউ মন্দির, যমুনা সেতু, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মুজিবনগর স্মৃতিসৌধের ছবি।
এই পরিবর্তনগুলোকে অনেকে রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা হিসেবেও দেখছেন। কারণ, পাসপোর্টের মতো রাষ্ট্রীয় নথিতে কোন ছবি বা বার্তা থাকবে, তা অনেক সময় দেশের রাজনৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হয়।

