দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনিবাসী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কর সনদ বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সার্টিফিকেট নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সঙ্গে সঙ্গে জমা হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য মূলধনী মুনাফা কর কেটে রাখবে। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই কর সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
এর আগে প্রতিটি লেনদেনের পর কর হিসাব নির্ধারণের জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের সনদ নিতে হতো। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগত এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে থাকত। ফলে দ্রুত লেনদেন ও পুনঃবিনিয়োগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতো।
নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির পরই অর্থ পুনরায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সময় চূড়ান্ত কর সমন্বয় করা হবে। এতে লেনদেন প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অনুরোধের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, আগের জটিল নিয়মের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারতেন না।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, ছোট ও বড়—সব ধরনের বিদেশি বিনিয়োগকারীর জন্যই আগের কর সার্টিফিকেট ব্যবস্থা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। বিশেষ করে ছোট বিনিয়োগকারীরা এতে বেশি সমস্যায় পড়তেন।
ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তকে বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এটি পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে এবং বিদেশি পুঁজি আকর্ষণে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো হলে বাজারে আস্থা বাড়ে। এতে লেনদেনের গতি বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীলতাও উন্নত হতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনিবাসী বিনিয়োগকারীরা ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট ও এনআইটিএ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পরিচালনা করবেন। ব্যাংকগুলো কর কেটে রাখার পর অবশিষ্ট অর্থ সহজেই বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দেবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থবির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

