Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, মে 22, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home»ব্যাংক»বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই ঘুরে দাঁড়াল দুই ব্যাংক
    ব্যাংক

    বেসরকারি ব্যবস্থাপনাতেই ঘুরে দাঁড়াল দুই ব্যাংক

    নিউজ ডেস্কমে 20, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, তখন খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও করদাতার অর্থে ব্যাংক বাঁচানোর প্রসঙ্গ সামনে আসে। বিশেষ করে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুর্বলতা বহু বছর ধরে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চিন্তার বিষয় হয়ে আছে। কিন্তু একই বাস্তবতার মধ্যে দুটি ব্যাংকের গল্প ভিন্ন বার্তা দেয়। পূবালী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত ছিল, আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল, খেলাপি ঋণের চাপেও ছিল। কিন্তু আশির দশকের শুরুতে সরকার যখন ব্যাংক দুটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়, তখন থেকেই শুরু হয় তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর দীর্ঘ যাত্রা।

    আজ সেই দুটি ব্যাংক দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের সফল উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে, যেসব ব্যাংক সরকারি মালিকানায় থেকে গেছে, তাদের বেশির ভাগই এখন বড় ধরনের আর্থিক চাপে। এই তুলনা শুধু দুটি ব্যাংকের সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও জবাবদিহির গুরুত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নও তৈরি করে।

    পূবালী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের বর্তমান অবস্থান দেখলে বোঝা যায়, একটি ব্যাংক কেবল বড় শাখা নেটওয়ার্ক বা পুরনো পরিচয়ের কারণে শক্তিশালী হয় না। ব্যাংক শক্তিশালী হয় সুশাসন, দায়িত্বশীল ঋণ বিতরণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকা এবং গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখার মাধ্যমে। এই জায়গাগুলোতেই পূবালী ও উত্তরা ব্যাংক নিজেদের আলাদা করেছে।

    পূবালী ব্যাংকের আর্থিক চিত্র বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গত বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ২০ শতাংশ। দেশের ব্যাংক খাতে যেখানে খেলাপি ঋণ বড় সংকটে পরিণত হয়েছে, সেখানে এত কম খেলাপি ঋণ ধরে রাখা একটি বড় অর্জন। ব্যাংকটির ঝুঁকি-ভারিত সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশে। একই সময়ে ব্যাংকটি ১ হাজার ৯০ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষণা করেছে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ।

    উত্তরা ব্যাংকের অবস্থানও শক্তিশালী। গত বছর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ এটি ৫ শতাংশের নিচে ছিল। ব্যাংকটির ঝুঁকি-ভারিত সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত ছিল ১৭ শতাংশের বেশি। একই সময়ে ব্যাংকটি ৫৯৮ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এ ব্যাংকও সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

    এই দুই ব্যাংকের সাফল্যকে শুধু এক বছরের ভালো ফলাফল হিসেবে দেখলে ভুল হবে। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে তাদের মূলধন সক্ষমতা, আমানত, ঋণ বিতরণ, মুনাফা ও লভ্যাংশে ধারাবাহিক উন্নতি দেখা গেছে। অর্থাৎ এটি আকস্মিক সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ফল। এ কারণে পূবালী ও উত্তরা ব্যাংকের উদাহরণ ব্যাংক খাতে সুশাসন ও কার্যকর বেসরকারি ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

    এর বিপরীতে সরকারি মালিকানায় থাকা ব্যাংকগুলোর অবস্থা অনেক বেশি উদ্বেগজনক। সরকারি মালিকানাধীন ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। এর বাইরে বিশেষায়িত দুটি ব্যাংক হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে কেবল সোনালী ব্যাংকের অবস্থা তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো বলা যায়। বাকি ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা বেশ নাজুক।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে সরকারি মালিকানাধীন আট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা। এটি এসব ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক ঋণই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। এত বড় পরিমাণ খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংকের হিসাবের সমস্যা নয়, এটি অর্থনীতির জন্যও বড় চাপ। কারণ ব্যাংকের টাকা মূলত আমানতকারীর টাকা, আর সরকারি ব্যাংক দুর্বল হলে শেষ পর্যন্ত করদাতার অর্থ দিয়েই তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য ন্যূনতম মূলধন সংরক্ষণের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হওয়া দরকার। কিন্তু সরকারি কোনো ব্যাংকই সেই মান ধরে রাখতে পারেনি। সোনালী ব্যাংক ১০ দশমিক ১১ শতাংশ পর্যন্ত মূলধন অনুপাত ধরে রাখতে পেরেছে, কিন্তু সেটিও নির্ধারিত মানের নিচে। অন্য ব্যাংকগুলোর অবস্থা আরও দুর্বল। জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি সঞ্চিতি ঘাটতিসহ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকায়।

    এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো সরকারকে লভ্যাংশ দিচ্ছে না, বরং উল্টো সরকারকে তাদের মূলধন জোগাতে হচ্ছে। অর্থাৎ জনগণের করের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত থাকা পূবালী ও উত্তরা ব্যাংক বেসরকারি খাতে গিয়ে এখন মুনাফা করছে, লভ্যাংশ দিচ্ছে, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখছে এবং মূলধন সক্ষমতাও শক্তিশালী করেছে।

    পূবালী ব্যাংকের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক নামে যাত্রা শুরু করেছিল ব্যাংকটি। কয়েকজন বাঙালি উদ্যোক্তা এ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতীয়করণের আওতায় এনে এর নাম রাখা হয় পূবালী ব্যাংক। পরে ১৯৮৩ সালে আর্থিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ব্যাংকটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের ৫১৮টি শাখা, ২৮০টি উপশাখা ও ৩০টি ইসলামি ব্যাংকিং সেবা কেন্দ্র রয়েছে।

    পূবালী ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর শেষে ব্যাংকটির মোট সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটিতে আমানত ছিল ৮৯ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ৭১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এত পুরনো ব্যাংক হয়েও খেলাপি ঋণ মাত্র ২ দশমিক ২০ শতাংশে ধরে রাখা সহজ কাজ নয়। ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সঞ্চিতি ও মূলধনের চেয়েও বেশি অর্থ সংরক্ষণ করতে পেরেছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালেও ব্যাংকটি ৭৮০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।

    এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সুশাসনকে। পূবালী ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা বলছে, ঋণ প্রদান, বিনিয়োগ, নিয়োগ, পদোন্নতি থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে সুশাসনের চর্চা থাকলে ব্যাংক খারাপ হওয়ার সুযোগ কমে যায়। বিশেষ করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কাগুজে প্রতিষ্ঠান বা দুর্বল ব্যবসার ওপর নির্ভর না করা ব্যাংকটিকে নিরাপদ রেখেছে। ব্যাংকটি দাবি করছে, কোনো ব্রিফকেস কোম্পানিতে তাদের ঋণ নেই। এর ফলই দেখা যাচ্ছে মুনাফা বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে।

    উত্তরা ব্যাংকের ইতিহাসও প্রায় একই ধরনের। ১৯৬৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশন নামে ব্যাংকটির যাত্রা শুরু হয়। স্বাধীনতার পর এটিকেও জাতীয়করণ করে উত্তরা ব্যাংক নাম দেওয়া হয়। পরে ১৯৮৩ সালে সরকার ব্যাংকটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে উত্তরা ব্যাংক ২৫০টি শাখা ও ৫০টি উপশাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে।

    গত বছর শেষে উত্তরা ব্যাংকের মোট সম্পদ ও দায়ের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। ব্যাংকটিতে গ্রাহকদের আমানত ছিল ২৬ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণ বিতরণ করেছে ২২ হাজার ১৭ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে দেশের ব্যাংক খাতে গড় খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশের বেশি থাকলেও উত্তরা ব্যাংকে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এই পার্থক্য দেখায়, একই ব্যাংকিং পরিবেশে থেকেও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা মনে করে, গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাসই ব্যাংকটির সবচেয়ে বড় শক্তি। ২০০১ সাল-পরবর্তী সময় থেকে ব্যাংকটি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে আছে। ব্যাংক খাতে নানা সংকট থাকলেও তারা গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে। ব্যাংকটি কোনো বন্ড ইস্যু না করেই মূলধন অনুপাত ১৭ শতাংশের ওপরে নিতে পেরেছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। এটিও একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে মুনাফা ও স্থিতিশীলতা একসঙ্গে ধরে রাখা সম্ভব।

    অন্যদিকে সরকারি ব্যাংকগুলোর চিত্র অনেক বেশি কঠিন। গত বছর শেষে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ। ব্যাংকটি শুধু গত বছরই ৩ হাজার ৯১৭ কোটি টাকার লোকসান দিয়েছে। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৩১ হাজার ১৪ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত ঋণের ৩৯ শতাংশ। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২০ হাজার ১৫ কোটি টাকা, এটিও ৩৯ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৬ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা, যা ১৬ শতাংশ। বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা, যা ৬৫ শতাংশ। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। এই দুই ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশ এখন খেলাপি।

    এই পরিসংখ্যানগুলো দেখলে বোঝা যায়, সরকারি ব্যাংকগুলোর সমস্যা শুধু বাজার পরিস্থিতির কারণে নয়। এর পেছনে আছে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল পর্ষদ, অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, নিয়ম না মেনে ঋণ বিতরণ এবং জবাবদিহির অভাব। সরকারি ব্যাংকে অনেক সময় ঋণ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক বিচার-বিশ্লেষণের বদলে প্রভাবশালী মহলের চাপে নেওয়া হয়। ফলে ঋণ ফেরত আসার সম্ভাবনা কমে যায়। একসময় সেই ঋণ খেলাপি হয়, ব্যাংকের মূলধন কমে যায়, লোকসান বাড়ে, আর শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে অর্থ জোগাতে হয়।

    এই বাস্তবতায় পূবালী ও উত্তরা ব্যাংকের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বড় শিক্ষা। বেসরকারীকরণ সব সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়, কিন্তু কার্যকর মালিকানা, স্বাধীন ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি থাকলে ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াতে পারে—এই উদাহরণ তারা তৈরি করেছে। এখানে মূল কথা হলো মালিকানা নয়, বরং কীভাবে ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে। পরিচালনা পর্ষদ যদি দৈনন্দিন কাজে অযথা হস্তক্ষেপ না করে, ব্যবস্থাপনা যদি পেশাদারভাবে কাজ করতে পারে, ঋণ যদি নিয়ম মেনে দেওয়া হয় এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা না দেওয়া হয়, তাহলে একটি ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হতে পারে।

    সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এখন কঠিন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। শুধু মূলধন জোগান দিয়ে ব্যাংক বাঁচানোর পুরনো পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে না। অতীতে বেসিক ব্যাংককে বাঁচাতে জনগণের করের অর্থ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যাংকটি অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পদ্মা ব্যাংকের ক্ষেত্রেও সরকারি ব্যাংক থেকে মূলধন জোগানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বারবার করদাতার টাকায় টিকিয়ে রাখা কতটা যৌক্তিক।

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে এখন সবচেয়ে বেশি দরকার সুশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঋণনীতি, দক্ষ পরিচালনা, কঠোর আদায় ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি। পূবালী ও উত্তরা ব্যাংক দেখিয়েছে, একসময় দুর্বল অবস্থায় থাকা ব্যাংকও সঠিক ব্যবস্থাপনায় লাভজনক ও স্থিতিশীল হতে পারে। আর সরকারি ব্যাংকগুলো দেখাচ্ছে, মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে থাকলেই জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয় না, যদি সেখানে দুর্বলতা, প্রভাব ও অনিয়ম জায়গা করে নেয়।

    শেষ পর্যন্ত এই দুটি ব্যাংকের গল্প বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। ব্যাংক বাঁচাতে শুধু টাকা ঢাললেই হবে না। দরকার নিয়ম, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা। পূবালী ও উত্তরা ব্যাংকের সাফল্য তাই কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—সুশাসন থাকলে ব্যাংক এগোয়, আর সুশাসন না থাকলে বড় ব্যাংকও দুর্বল হয়ে পড়ে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ব্যাংক

    বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে কর সার্টিফিকেটের বাধা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

    মে 21, 2026
    ব্যাংক

    বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ২৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৪.৭২ শতাংশে

    মে 20, 2026
    ব্যাংক

    দুই ঘণ্টায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, বাড়ছে ডিজিটাল নির্ভরতা

    মে 20, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    অর্থনীতি জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.