Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বৃহস্পতি, মে 21, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home»অর্থনীতি»ব্যবসায় গতি ফেরাতে বাজেটে নতুনত্ব চান উদ্যোক্তারা
    অর্থনীতি

    ব্যবসায় গতি ফেরাতে বাজেটে নতুনত্ব চান উদ্যোক্তারা

    নিউজ ডেস্কমে 21, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এবার কিছুটা ভিন্ন। তারা চান, কেবল বড় অঙ্কের ব্যয়ের ঘোষণা নয়, বরং এমন বাস্তবধর্মী উদ্যোগ আসুক যা ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়টি এবারের বাজেটে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন তারা।

    ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার চেয়ে স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব নীতিই বেশি প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে করনীতিতে স্বস্তি দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপও থাকতে হবে বাজেটে।

    ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ মনে করছে, ৩০ বছরের নিচের উদ্যোক্তাদের জন্য পাঁচ বছরের করমুক্ত সুবিধা চালু করা হলে তা নতুন প্রজন্মকে ব্যবসায় আগ্রহী করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এটিকে সম্ভাব্য বাজেটের অন্যতম নতুনত্ব হিসেবেও দেখছেন কেউ কেউ।

    তাদের ভাষ্য, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় বরাদ্দের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। কারণ নতুন বিনিয়োগ ও নতুন উদ্যোক্তা ছাড়া অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এবারের বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সরকার বড় ধরনের করছাড় বা প্রণোদনা দিতে খুব বেশি সুযোগ পাবে না বলেও ধারণা তাদের।

    দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের বাজেটে তারা এমন সিদ্ধান্ত দেখতে চান যা ব্যবসার পরিবেশ সহজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে।

    উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর উদ্যোগ চায় ব্যবসায়ীরা:

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে বাড়ছে প্রত্যাশা। তবে তারা বড় বড় ঘোষণা নয়, বরং বাস্তবায়নযোগ্য ও কার্যকর পদক্ষেপকে বেশি গুরুত্ব দিতে বলছেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, তারা এমন একটি বাস্তবমুখী বাজেট প্রত্যাশা করছেন যেখানে উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতির বদলে বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা অগ্রাধিকার পাবে। তার মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে করহার স্থিতিশীল রাখা, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অপ্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধি ও নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানো জরুরি। এতে উদ্যোক্তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।

    তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। সেই পরিকল্পনায় রপ্তানি খাতের বহুমুখীকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা এবং উৎপাদন খাতে প্রণোদনা থাকতে হবে। একইসঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও লজিস্টিক ব্যয় কমানোর উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

    ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরানোর বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি। তার ভাষায়, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বড় ছাড় নয়, স্থিতিশীল নীতিই এখন প্রত্যাশা:

    আসন্ন জাতীয় বাজেটকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে বড় ধরনের সুবিধা বা চমকের প্রত্যাশা নেই। বরং বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ব্যবসাবান্ধব স্থিতিশীল নীতি এবং ব্যয় কমানোর উদ্যোগকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তারা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, নতুন সরকারের বয়স এখনো খুব বেশি হয়নি। এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তাই এবারের বাজেটে বড় কোনো নতুনত্ব বা চমক আসবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করেন তিনি।

    তার মতে, ব্যবসায়ীদের প্রধান চাওয়া হলো নতুন করে করের চাপ না বাড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। তিনি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ না হওয়ায় একই করদাতাদের ওপর বারবার বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে নিয়মিত কর প্রদানকারীরাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন। এজন্য করহার বাড়ানোর পরিবর্তে নতুন করদাতাদের আওতায় আনার কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান ব্যবসায়ীরা।

    তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ এখন নিত্যপণ্যের দাম কমার প্রত্যাশা করছে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা নজর রাখছেন ব্যবসার পরিবেশ কতটা অনুকূলে যাচ্ছে তার ওপর। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানির মূল্য, পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয় এবং ব্যাংকঋণের সুদের হার এখন ব্যবসার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।

    বিসিআই সভাপতি মনে করেন, বর্তমানে উচ্চ সুদহার ও বাড়তি পরিচালন ব্যয় বিনিয়োগে চাপ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার যদি অতিরিক্তভাবে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাত প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই সরকার কীভাবে বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে, সে বিষয়ে বাজেটে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বাজেটে ভিন্নতা চান ব্যবসায়ীরা:

    আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুনত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান তারা। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, প্রচলিত ধাঁচের বাজেটের বাইরে গিয়ে এবার বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন।

    এ বিষয়ে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, প্রতি বছরই বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ীদের নানা প্রত্যাশা থাকে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয় না। তবে নতুন সরকার কিছু নতুন চিন্তাভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সংকটের কারণে এবারের বাজেট ভারসাম্যপূর্ণ হবে বলেও ধারণা তার।

    তার মতে, ব্যবসায়ীদের মূল প্রত্যাশা করনীতি, কাস্টমস শুল্ক, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রোডম্যাপকে কেন্দ্র করেই। এবারের বাজেটে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও নতুন ধরনের উদ্যোগ দেখতে চান বলে জানান তিনি।

    আবুল কাসেম খান বলেন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে করনীতিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে ২৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নতুন উদ্যোক্তাদের পাঁচ বছরের জন্য করমুক্ত সুবিধা দিলে তা দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তার ভাষায়, আগামী ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির সরকারি উদ্যোগকে সফল করতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অধিকাংশ কর্মসংস্থানই আসে বেসরকারি খাত থেকে।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর দেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই পরিমাণ চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে বেকারত্ব কমাতে উদ্যোক্তা তৈরিকে বিকল্প পথ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    শুধু নতুন উদ্যোক্তা নয়, পুরোনো ব্যবসায়ীদের জন্যও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এমন প্রণোদনা থাকতে হবে যাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব হয়। একইসঙ্গে বাজেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি নীতি, কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কৌশল ছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই বাজেট, নীতি ও করব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে এবার এমন একটি বাজেট প্রয়োজন, যা ব্যবসায়ীদের নতুন করে সাহস ও প্রেরণা দেবে। আসন্ন বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশি।

    দেশীয় শিল্প রক্ষায় কার্যকর নীতির দাবি:

    নতুন সরকারের প্রথম বাজেট সামনে রেখে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং হয়রানিমুক্ত ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্থানীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ এখন অত্যন্ত জরুরি।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-এর পরিচালক মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়াই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হওয়া উচিত। তার মতে, তৈরি পোশাক খাতে স্থানীয় ভ্যালু অ্যাডিশনের হার এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ স্থানীয় ভ্যালু অ্যাডিশন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে সরকারকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিল্প সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে এখন অগ্রাধিকার দিতে হবে। করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সেটি অবশ্যই আস্থাভিত্তিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে করতে হবে। তার মতে, নতুন করদাতাদের মধ্যে ভয় বা হয়রানির আশঙ্কা থাকলে করজাল সম্প্রসারণ কঠিন হয়ে যাবে।

    মোহা. খোরশেদ আলম বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেন আরও না বাড়ে, সেদিকেও বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

    ব্যবসায়ীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে হয়রানিমুক্ত পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আয়কর, ভ্যাট কিংবা ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন ধাপে যেন অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, ব্যবসায় লাভ হলে কর দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে থাকলেও শুধুমাত্র করের আওতায় রয়েছে বলে যেন অযথা চাপ বা হয়রানির শিকার না হয়, সেই নিশ্চয়তাও প্রয়োজন।

    আইসিটি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও বড় বিনিয়োগের দাবি:

    আসন্ন জাতীয় বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং ই-কমার্সে উৎসাহ বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা এবং কর-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-এর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখন দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করা। তার মতে, এবারের বাজেটে স্কিল ডেভেলপমেন্ট খাতে বড় বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেন, শুধু আইসিটি নয়, প্রায় সব খাতেই নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে নীতিমালা গ্রহণ করা হবে, সেটি যেন অন্তত পাঁচ বছর স্থায়ী থাকে, সেই নিশ্চয়তা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

    আইসিটি খাতের কর অব্যাহতি প্রসঙ্গে সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, বর্তমানে এই সুবিধার মেয়াদ আগামী বছর পর্যন্ত রয়েছে। তবে বছরভিত্তিক মেয়াদ বাড়ানোর পরিবর্তে একবারে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দেওয়া হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি উৎসাহিত হবেন।

    রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার বিষয়েও মত দেন তিনি। তার ভাষায়, আইসিটি রপ্তানিতে নগদ সহায়তা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছিল। সেটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হলে খাতটি ৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    ই-কমার্স খাতকে আরও বিস্তৃত করতে অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাবও দেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য ই-কমার্সকে পুরোপুরি ভ্যাটমুক্ত রাখা হলে ক্রেতারা অনলাইনে কেনাকাটায় আরও আগ্রহী হবেন। এতে ডিজিটাল কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

    চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেটের প্রত্যাশা:

    বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নতুন সরকারের প্রথম বাজেট ঘিরে ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে বিনিয়োগ, রপ্তানি ও শিল্পখাতের জন্য বাস্তবমুখী নীতি সহায়তা চান উদ্যোক্তারা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, এবারের বাজেটে তারা একটি বাস্তবভিত্তিক, বিনিয়োগবান্ধব ও রপ্তানিমুখী দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে চান। তার মতে, নতুন সরকার কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তারপরও ব্যবসায়ী সমাজ নতুন সরকারের কাছে ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছে।

    প্যাকেজিং খাতের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চলতি বছর পেপার ও প্যাকেজিং খাতকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাই এই স্বীকৃতির বাস্তব প্রতিফলন বাজেটেও থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    সাফিউস সামি আলমগীরের মতে, বর্তমানে প্যাকেজিং খাতে আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে দ্বৈত করের যে সমস্যা রয়েছে, সেটি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডিউটি ড্রব্যাক প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিমান্ড এক্সপোর্ট সুবিধা দেওয়া এবং টেকসই মনো-মেটারিয়াল প্যাকেজিংয়ে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও বাজেটে থাকা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, দেশের অপ্রচলিত রপ্তানি খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। কারণ এসব খাতকে শক্তিশালী করা গেলে রপ্তানিতে বৈচিত্র্য বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    ক্যাশলেস ঢেউয়ে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ

    মে 21, 2026
    অপরাধ

    বাজারে নীরব ডাকাতি—কে থামাবে ওজনের জালিয়াতি?

    মে 21, 2026
    অর্থনীতি

    করের চাপে নিত্যপণ্য—স্বস্তি হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ

    মে 21, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    অর্থনীতি জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.