সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার সূচকের উত্থানের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। যদিও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন কিছুটা কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬৪ পয়েন্টে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ৭ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৬৯ ও ১ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
দিনভর ডিএসইতে মোট ৮৬৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮৪১ কোটি ১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন প্রায় ২৬ কোটি টাকা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৩৩টির, কমেছে ৯৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল আরডি ফুড, এশিয়াটিক ল্যাব, মীর আক্তার, বিডি থাই ফুড, বসুন্ধরা পেপার, টেকনো ড্রাগস, কেডিএস এক্সেসরিজ, সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল এবং একমি লিমিটেড। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচকে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ পয়েন্টে।
সিএসইতে ২০০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১৭টির দর বেড়েছে, ৫৮টির কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
তবে লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা ভাটা দেখা গেছে চট্টগ্রামের বাজারে। বৃহস্পতিবার সেখানে মোট ৩০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা কম। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সূচকের ধারাবাহিক ওঠানামার মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, ওষুধ ও খাদ্য খাতের কিছু শেয়ারে আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে তারা মনে করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত আস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়ন এখনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে।

