দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতনের ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে। টানা তিন কার্যদিবস ধরে সূচক ও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর একসঙ্গে বেড়েছে, পাশাপাশি লেনদেনেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি।
বৃহস্পতিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে দিন শেষ হয়। এর ফলে সবগুলো প্রধান সূচকও আগের দিনের তুলনায় বেড়ে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঈদ-উৎসব কেন্দ্রিক বিক্রির চাপ কমে আসায় বাজারে স্বস্তির পরিবেশ ফিরছে। কিছুদিন আগে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে শেয়ার বিক্রি করায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। এখন সেই চাপ অনেকটাই কমেছে।
ডিএসইর একজন সদস্য জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণত বাজারে তারল্য সংকোচন দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং মানসম্মত শেয়ারের প্রতি আগ্রহ ধীরে ধীরে ফিরছে। আরেকজন বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘ মন্দার কারণে অনেক শেয়ারের দাম আগেই কমে গেছে। ফলে বর্তমান স্তরে অনেক শেয়ার বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় অবস্থায় রয়েছে। তবে তিনি সতর্কতার ওপর গুরুত্ব দেন।
লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। এর বিপরীতে কিছু প্রতিষ্ঠানের দর কমলেও সামগ্রিকভাবে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকে।
দিনশেষে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে অবস্থান করে। শরিয়াহ সূচক এবং বাছাই করা শীর্ষ কোম্পানির সূচকও ঊর্ধ্বমুখী থাকে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণও সামান্য বৃদ্ধি পায়। লেনদেনে শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের শেয়ার হাতবদল হয়, যা মোট বাজার লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের চিত্র দেখা যায়। সেখানে সূচক বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও বেড়েছে। তবে লেনদেন কিছুটা কমে আসে। সব মিলিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা স্থায়ী হতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া এবং মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির প্রতি স্থিতিশীল চাহিদা তৈরি হওয়া প্রয়োজন।

