দেশের বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আনা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করে ব্যাংক ঋণের ওপর চাপ কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এমন মন্তব্য করা হয়েছে রাজধানীতে আয়োজিত একটি নীতিগত আলোচনা সভায়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, অর্থনীতিকে আরও বিস্তৃত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বড় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন তারল্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। অর্থনীতির সুবিধা শুধু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয় আলোচনায়। গ্রামীণ কারিগর, তাঁতি ও ছোট পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও নতুন পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। থিয়েটার, সংগীত, চিত্রকলা এবং সৃজনশীল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে আলাদা প্রকল্প ও তহবিল বরাদ্দের কথা জানানো হয়। বড় শহরগুলোতে সাংস্কৃতিক অঞ্চল বা ‘থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট’ গড়ে তোলার উদ্যোগও বিবেচনায় রয়েছে।
ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাসের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার অতিরিক্ত চার্জ কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, যেখানে অনুমোদনের ধাপ কমিয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমিত করার উদ্যোগ চলছে।
ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়। নাগরিক সেবাকে একটি একক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
অর্থনীতিতে উচ্চ সুদের ঋণের চাপ কমাতে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে বিকল্প অর্থায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বড় কোম্পানির জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় আরও বলা হয়, কর ব্যবস্থায় সংস্কার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর ফাঁকি রোধ, বড় করদাতাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ কর কাঠামো প্রবর্তনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নীতিনির্ধারকরা জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর কাঠামোয় রূপান্তর করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

