সরকারি হাসপাতালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যকর না করে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালের দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।
সম্প্রতি একটি টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি বছরের অধিকাংশ সময় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। তার ভাষ্য, এই পরিস্থিতির পেছনে স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি অস্বচ্ছ যোগসাজশ কাজ করছে।
রুমিন ফারহানা বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় গড়ে তোলা হলে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সীমিত রাখা হয়। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী কয়েকশ শিশুর মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যাচ্ছে, তারা অনেক সময় সরকারি পরিসংখ্যানে যুক্ত হচ্ছে না।
তার মতে, হাম ও অন্যান্য সংক্রামক রোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা সময়মতো টিকা, পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান শ্রেণি উচ্চ ব্যয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারলেও দরিদ্র মানুষের সেই সুযোগ নেই। ফলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বৈষম্য দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সরকারের প্রতি জবাবদিহির দাবি জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, একটি শিশু জন্মের পর যেসব মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা পাওয়ার কথা, তার অনেক কিছুই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালে দরিদ্র মানুষের মানসম্মত চিকিৎসার পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারার দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

