২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতায় দায়ের হওয়া ১ হাজার ৭৩০টি মামলার মধ্যে মাত্র ১৫টি মামলায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এক বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতদের স্বজন ও আহতরা।
তবে পুলিশ বলছে, তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। অনেক মামলার তদন্ত ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। তদন্তে ধীরগতির জন্য জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ কাজের কথা জানিয়েছে তারা।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ওই সময় সারা দেশে দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে ৭৩১টি ছিল হত্যা মামলা এবং বাকি ৯৯৯টি ছিল অন্যান্য ধারায়। নিহতদের স্বজন ও আহতরা এসব মামলার বাদী।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শুরু হয় কোটাবিরোধী আন্দোলন। আন্দোলন দমনে পুলিশ গুলি চালালে প্রতিদিনই হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। একপর্যায়ে আন্দোলন রূপ নেয় সরকার পতনের দাবিতে একদফার আন্দোলনে।
পাঁচ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মামলা দায়েরের প্রবণতা আরও বাড়ে। পুলিশের তথ্যমতে, সরকার পতনের আগে দায়ের হওয়া অনেক মামলায় আন্দোলনকারী ছাত্র ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয় এবং তথ্য গোপন রাখা হয়। সরকার পতনের পর সেসব মামলার অধিকাংশই চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়।
পরে নিহতদের পরিবার ও আহতরা নতুন করে মামলা করেন। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা, তাঁর দলের নেতাকর্মী ও গুলির নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের নামও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মাত্র ১৫ মামলায় চার্জশিট
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচটি হত্যা মামলা এবং দশটি অন্যান্য ধারার মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মানবতাবিরোধী মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
যেসব হত্যা মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে:
- শেরপুরে ৩টি
- কুড়িগ্রামে ১টি
- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ১টি
অন্য ১০টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে:
- ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ – ১টি
- বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ – ১টি
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ – ৩টি
- সিরাজগঞ্জ – ২টি
- পাবনা – ১টি
- পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) – ২টি
ধীরগতির কারণ কী?
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, তদন্তের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাগুলো তদারকি করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, “এই মামলাগুলো খুবই স্পর্শকাতর। যাতে কোনো ভুল না হয়, সেই কারণে সময় নিয়ে তদন্ত করছি। অনেক আসামিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতেও সময় লাগছে।”
ঢাকার বিভিন্ন থানার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, বহু মামলায় এখনও নিহতদের ময়নাতদন্ত হয়নি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই নিহতদের রক্তমাখা জামাকাপড়, শরীর থেকে বের করা গুলি বা প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য মেলেনি। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে। এসব কারণে চার্জশিট দিতে বিলম্ব হচ্ছে।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ মামলার তদন্ত ঝুলে থাকার কারণে হতাশা বাড়ছে আহত ও নিহতদের পরিবারে। তাঁরা দ্রুত বিচার ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

