Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, সেপ্টে. 28, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য ফিদেল কাস্ত্রোর মতো বড় কণ্ঠের প্রয়োজন কেন?
    বিশ্লেষণ

    ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য ফিদেল কাস্ত্রোর মতো বড় কণ্ঠের প্রয়োজন কেন?

    এফ. আর. ইমরানসেপ্টেম্বর 28, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। ছবি: সংগৃহীত
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ফিরে দেখা, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬০

    ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ছিল শীতল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ এক সময়ের প্রতিচ্ছবি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতি তখন আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে দুই মেরুতে বিভক্ত। ঠিক সেই সময় সদ্য বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর জাতিসংঘ সফর শুধু একটি কূটনৈতিক ঘটনা ছিল না, বরং ছোট একটি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৃহৎ শক্তির আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

    সাধারণত জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী একজন বক্তার জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে। কিন্তু সামরিক পোশাকে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ফিদেল কাস্ত্রো যেন ঘড়ির কাঁটা থামিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট (মোট ২৬৯ মিনিট) ভাষণ দেন, যা আজ পর্যন্ত জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের বিশ্বরেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে। যিনি জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘অশিক্ষিত ও জাহিল’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

    ১৯৫৯ সালে ফুলগেনসিও বাতিস্তা সরকারকে উৎখাতের পর কিউবার নতুন বিপ্লবী সরকার আমেরিকার সঙ্গে দ্রুত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বাতিস্তা আমলে কিউবার অর্থনীতি, রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমেরিকার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তবে কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর ভূমি সংস্কার, বিদেশি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তনের কারণে ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়।

    ১৯৬০ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর কাস্ত্রোর অবস্থান ঘিরে একাধিক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রথমে তিনি ম্যানহাটনের হোটেল শেলবোর্নে অবস্থান নেন। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ তাঁদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং নিরাপত্তার অজুহাতে প্রায় ১০,০০০ ডলার অগ্রিম ক্যাশ ডিপোজিট দাবি করেন। ফলে ​সেখানে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তার প্রশ্নে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। কিউবান প্রতিনিধি দলের বিরুদ্ধে মার্কিন গণমাধ্যমে নানা অভিযোগও প্রকাশিত হয়, যেসব নিয়ে পরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাস্ত্রো জাতিসংঘের মহাসচিব দাগ হামারশোল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এমন অবস্থান নেন যে, যদি মর্যাদাপূর্ণ থাকার ব্যবস্থা না করা হয়, তবে জাতিসংঘের আশপাশে তাঁবু ফেলেও অবস্থান করবেন। এই বক্তব্য ছিল মূলত কূটনৈতিক চাপ তৈরির একটি কৌশল, যার মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছিলেন যে কিউবা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সমান মর্যাদা দাবি করছে।

    ক্ষোভে ফিদেল কাস্ত্রো ম্যানহাটনের হোটেল শেলবোর্নে ত্যাগ করে তার সদস্যদের নিয়ে হার্লেম এলাকায় হোটেল থেরেসায় ওঠেন। ছবি: সংগৃহীত

    পরবর্তীতে কাস্ত্রো হোটেল শেলবোর্ন ত্যাগ করে ম্যানহাটনের হার্লেম এলাকায় অবস্থিত হোটেল থেরেসায় চলে যান। সে সময় হার্লেম ছিল আমেরিকার বর্ণবৈষম্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেখানে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে কাস্ত্রো একটি প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা দেন- আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বৈষম্য ও তার বৈদেশিক নীতির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, সেটিকে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার কৌশল অবলম্বন করেন।

    হোটেল থেরেসা দ্রুত আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি অস্থায়ী কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেভিয়েত ইউনিয়নের সর্বোচ্চ নেতা ক্রুশচেভ নিজে হোটেলে গিয়ে কাস্ত্রোকে জড়িয়ে ধরেন, যা তাদের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক জোটের সূচনা করে। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, মিসরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদেল নাসেরসহ বিভিন্ন দেশের নেতা কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা ম্যালকম এক্সের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়। এই সাক্ষাৎগুলোর মধ্যে দিয়ে কাস্ত্রো শুধু কিউবার নেতা নন, বরং উপনিবেশবিরোধী ও উন্নয়নশীল বিশ্বের রাজনীতিতে একটি প্রতীকী চরিত্রে পরিণত হচ্ছিলেন।

    ​তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার জাতিসংঘের অধিবেশনে আসা লাতিন আমেরিকার সব রাষ্ট্রের প্রধানদের জন্য একটি রাজকীয় মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। কিন্তু কিউবার প্রেসিডেন্ট ও বিপ্লবী নেতা কাস্ত্রোকে ইচ্ছাকৃতভাবে সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ​এর জবাবে কাস্ত্রো হোটেল থেরেসায় এক ব্যতিক্রমী মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। তিনি সেই আয়োজনে কোনো ভিআইপি বা কূটনীতিকদের দাওয়াত না দিয়ে হার্লেমের সাধারণ হোটেলকর্মী, বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং দিনমজুরদের আমন্ত্রণ জানান। তাদের সাথে এক টেবিলে বসে তিনি খাবার খান, যা গণমাধ্যমে বিশাল খবর হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

    ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার - WWII, ঠান্ডা যুদ্ধ, রাষ্ট্রপতি | ব্রিটানিকা
    তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

    তবে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়েও বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কাস্ত্রোর সমর্থকেরা এটিকে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে একটি সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কাস্ত্রোর সরকারও পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে আরেক ধরনের প্রভাব বলয়ে প্রবেশ করে।

    জাতিসংঘের দীর্ঘতম ভাষণে প্রতিবাদের রাজনৈতিক কৌশল

    ১৯৬০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিদেল কাস্ত্রো যে ভাষণ দেন, সেটি আজও ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ভাষণ হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রায় ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি, উপনিবেশবাদ এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার কাঠামোর সমালোচনা করেন।

    সাধারণত জাতিসংঘের ভাষণগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে এত দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়া ছিল কাস্ত্রোর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তিনি শুধু আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেননি, বরং বিশ্ববাসীর সামনে কিউবার বিপ্লবের রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও তুলে ধ্নরেন।

    ভাষণে তিনি আমেরিকার ১৮২৩ সালের “মনরো ডকট্রিন” এবং জন কুইন্সি অ্যাডামসের “পাকা ফল তত্ত্ব”-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। এই ধারণায় বলা হয়েছিল, ইউরোপীয় প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসার পর কিউবা একসময় স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার প্রভাব বলয়ে আসবে।

    জাতিসংঘের মঞ্চে ফিদেল কাস্ত্রো বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, কিউবা কোনো খসে পড়া ফল নয়, বরং এটি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ, যা কারও শোষণের শিকার হবে না।

    পরে কাস্ত্রো হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “আমেরিকা এখনো সেই পাকা আপেলটার আশায় বসে আছে, কিন্তু এই ফল আর কোনোদিন তাদের কোলে পড়বে না।”

    জাতিসংঘে আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বনেতাদের সামনে পশ্চিমা বিশ্বকে একদম স্তব্ধ করে দিয়ে ফিদেল কাস্ত্রো বলেন, “কিউবা একটা পাকা আপেল, যা আমেরিকা গিলে খেতে চায়!“

    ভাষণের শেষভাগে তিনি বিশ্ব শান্তির আহ্বান জানান এবং সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলোর কারণে বিশ্ব কীভাবে যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়ছে, তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘অশিক্ষিত ও জাহিল’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

    ১৯৬০ সালে ফিদেল কাস্ত্রো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

    তাঁর বক্তব্যের মূল রাজনৈতিক বার্তা ছিল, কিউবা কোনো পরজীবী ফল নয় যে আমেরিকার ঝুলিতে গিয়ে পড়বে।
    স্পেনের হাত থেকে কিউবাকে মুক্ত করার নামে আমেরিকা আসলে ছদ্মবেশে কিউবার সম্পদ লুট করতে চেয়েছিল। বাতিস্তার মতো পাপেট স্বৈরাচারী বসিয়ে কিউবাকে আমেরিকার একটা কলোনি বানিয়ে রাখা হয়েছিল।

    কাস্ত্রোর এই এক ভাষণ আমেরিকার শত বছরের প্ল্যানিং ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল।

    সাহস নাকি রাজনৈতিক প্রদর্শন?

    কাস্ত্রোর জাতিসংঘ ভাষণকে অনেকেই সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখেছেন। কারণ, সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং কিউবা ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট একটি দেশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটনের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করা ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ।

    তবে এই ঘটনাকে শুধু সাহসের গল্প হিসেবে দেখলে পুরো রাজনৈতিক বাস্তবতা ধরা পড়ে না। কাস্ত্রোর বক্তব্য ছিল একই সঙ্গে কূটনৈতিক নাটকীয়তা, আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের চেষ্টা এবং শীতল যুদ্ধের ক্ষমতার রাজনীতির অংশ।

    তিনি বুঝেছিলেন যে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তিতে আমেরিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। তাই তিনি ব্যবহার করেছিলেন রাজনৈতিক প্রতীক, জনমত এবং আন্তর্জাতিক প্রচারকে। হার্লেমে অবস্থান নেওয়া এবং দীর্ঘ ভাষণ দেওয়া – দুটিই ছিল জনমত তৈরির কৌশল।

    ১৯৬০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিদেল কাস্ত্রো।
    ১৯৬০ সালে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UN General Assembly) ১৫তম অধিবেশনে কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সাথে। ছবি: সংগৃহীত

    কিউবা সংকেতে আমেরিকার প্রভাব হারানোর ভয়

    কিউবার বিপ্লবের আগে আমেরিকার কিউবার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। বিপ্লবের পর সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। কাস্ত্রোর সরকার মার্কিন মালিকানাধীন সম্পদ জাতীয়করণ করে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে।

    ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে এটি ছিল পশ্চিম গোলার্ধে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধির একটি বড় উদ্বেগ। এই উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালের বে অব পিগস অভিযান এবং ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট বিশ্বকে পারমাণবিক সংঘাতের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

    অন্যদিকে কিউবার দৃষ্টিতে আমেরিকার নীতি ছিল তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে অবিশ্বাস ও সংঘাতের মধ্যে ছিল।

    ঐতিহাসিক মূল্যায়ন

    ফিদেল কাস্ত্রোর ১৯৬০ সালের জাতিসংঘ ভাষণ ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি প্রতীকী মুহূর্ত। এটি দেখিয়েছিল যে সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বাইরে রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনৈতিক প্রতীক এবং আন্তর্জাতিক জনমতও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হতে পারে।

    তবে কাস্ত্রোর উত্তরাধিকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে মতভেদ রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে উপনিবেশবাদ ও পরাশক্তির আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখেন। সমালোচকেরা তাঁর শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও বিরোধী মত দমনের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

    তাই ১৯৬০ সালের সেই ভাষণকে শুধু যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য হিসেবে নয়, বরং শীতল যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখা যায়- যেখানে একটি ছোট রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিল এবং একই সঙ্গে বিশ্ব রাজনীতির বৃহৎ সংঘাতগুলোর প্রতিফলন ঘটেছিল।

    এখানে ফিদেল কাস্ত্রোকে ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে কিউবাতে উপস্থাপক এড সালিভানের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দেখা যাচ্ছে।
    ফিদেল কাস্ত্রোকে ১৯৫৯ সালের জানুয়ারিতে কিউবাতে উপস্থাপক এড সালিভানের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দেখা যাচ্ছে। ল্যান্ডোভ/ম্যাক্সপিপিপি

    বড় কণ্ঠের প্রয়োজন কেন?

    আমেরিকাসহ সব পরাশক্তিগুলোর সেই “পাকা ফল তত্ত্ব” কিন্তু আজও বন্ধ হয়নি। আজও কোনো না কোনো ছদ্মবেশে পরাশক্তিগুলো স্বাধীন দেশগুলোকে গিলে খাওয়ার ধান্দা করে। কিন্তু কাস্ত্রো সেদিন প্রমাণ করেছিলেন যে, ছোট দেশ হলেও যদি মেরুদণ্ড সোজা থাকে, তবে আমেরিকা, চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিকেও কাঁপিয়ে দেওয়া সম্ভব।

    আজ যখন আমরা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় বড় দেশের দ্বিচারিতা দেখি, তখন মনে হয় কাস্ত্রোর মতো এমন একজন কড়া লিডারের বড় অভাব, যে টেবিল চাপড়ে সাম্রাজ্যবাদীদের মুখোশ সবার সামনে টেনে খুলে ফেলবে।

    কারণ, কাস্ত্রোর ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিটের ভাষণ ছিল শুধু দীর্ঘ বক্তৃতা নয়; এটি ছিল ক্ষমতার অসম সম্পর্কের মধ্যে একটি ছোট রাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিরোধের উদাহরণ।

    তবে একই সঙ্গে এটি মনে করিয়ে দেয় যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো রাষ্ট্রের অবস্থান মূল্যায়ন করতে হলে তার প্রতিপক্ষের নীতি যেমন বিবেচনা করতে হয়, তেমনি নিজের শাসনব্যবস্থা ও কর্মকাণ্ডও বিশ্লেষণ করতে হয়।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    আন্তর্জাতিক

    ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত আরএএফ ঘাঁটির কাছে ‘সন্ত্রাস’, তদন্তে যা জানা গেছে

    সেপ্টেম্বর 28, 2026
    আন্তর্জাতিক

    আরব সাগর থেকেও ‘শত্রু বাহিনীকে’ বিতাড়িত করা হবে: খামেনি

    সেপ্টেম্বর 28, 2026
    অর্থনীতি

    লুব্রিকেন্ট বাজারের অস্থিরতা: আট হাজার কোটি টাকার শিল্পে কাঁচামাল ও ডলার সংকটের বড় ধাক্কা

    সেপ্টেম্বর 28, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.