Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, অক্টো. 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • কৃষি
      • রাজনীতি
      • ভিডিও
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ফোর্ট্রেস আমেরিকা: আত্মরক্ষার দেয়াল, নাকি দীর্ঘ যুদ্ধের ভিত?
    বিশ্লেষণ

    ফোর্ট্রেস আমেরিকা: আত্মরক্ষার দেয়াল, নাকি দীর্ঘ যুদ্ধের ভিত?

    এফ. আর. ইমরানঅক্টোবর 27, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্র
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, বিপুল প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, পারমাণবিক অস্ত্র এবং বিশ্বজুড়ে সামরিক ঘাঁটি থাকার পরও কেন যুক্তরাষ্ট্রকে এখন নিজের সামরিক স্থাপনাগুলোকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই চালানোর প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে? শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র কি একমাত্র ভয়, নাকি বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে যাওয়া, সাইবার হামলা, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও পেন্টাগনের হিসাব বদলে দিচ্ছে?

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘোষিত ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগ এই প্রশ্নগুলোকে সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষিত পরিকল্পনায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আরও স্বনির্ভর ও সংকট-সহনশীল করার কথা বলা হয়েছে। লক্ষ্য শুধু ঘাঁটির বিদ্যুৎ চালু রাখা নয়; বরং যুদ্ধের সময় জ্বালানি, পানি, যোগাযোগ, গোলাবারুদ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপকরণের সরবরাহ সচল রাখা। পেন্টাগনের ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার জন্য একধরনের ‘জাতীয় বিমা’। সূত্র: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘোষণা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

    কিন্তু এই উদ্যোগের তাৎপর্য আরও গভীরে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি এত দিন শুধু অস্ত্রের আধুনিকতা, প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশ্বজুড়ে বাহিনী মোতায়েনের সক্ষমতা দিয়ে বিচার করা হয়েছে। এখন সেই শক্তির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরেকটি কঠিন প্রশ্ন—যুদ্ধের প্রথম ধাক্কায় বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়লে যুক্তরাষ্ট্র কত দিন নিজের সামরিক শক্তি সচল রাখতে পারবে?

    ফোর্ট্রেস আমেরিকা সেই দুর্বলতার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধ আসন্ন হওয়ার প্রমাণ নয়; বরং ভবিষ্যৎ সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা যাতে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর দুর্বলতায় অচল না হয়ে পড়ে, সেই প্রস্তুতি।

    ৯০ দিনের প্রস্তুতি কেন?

    পেন্টাগনের ঘোষণা

    পেন্টাগনের পরিকল্পনায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বড় সামরিক স্থাপনাগুলোকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সহায়তা ছাড়াই জরুরি কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ঘাঁটি ৯০ দিন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় যুদ্ধ করবে। বরং বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কার্যক্রম যেন চলতে পারে, সেটিই মূল লক্ষ্য। সূত্র: TWZ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

    কেন ৯০ দিন? কারণ আধুনিক যুদ্ধে প্রথম কয়েকটি দিনই সব সময় শেষ কথা বলে না। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে গোলাবারুদ, জ্বালানি, যন্ত্রাংশ ও চিকিৎসাসামগ্রীর চাহিদা বাড়তে থাকে। একই সময়ে বন্দর, রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটলে নতুন সরঞ্জাম পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। শত্রুপক্ষ যদি সরাসরি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা না করেও সেগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার অবকাঠামো অচল করতে পারে, তাহলে বিপুল অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

    সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে শুধু শত্রুর অস্ত্রের চেয়ে উন্নত অস্ত্র থাকলেই চলবে না; নিজের বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থাও বিপর্যয়ের মুখে টিকিয়ে রাখতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও যে এসব অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, সেটিই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য।

    এ কারণেই পেন্টাগন সামরিক ঘাঁটির নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন, বড় ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা এবং মূল বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কাজ করতে সক্ষম ক্ষুদ্র গ্রিডের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কিছু স্থাপনায় বহনযোগ্য ক্ষুদ্র পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে এসব ব্যবস্থা সর্বত্র স্থাপিত হয়ে গেছে, এমন নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এগুলো পরিকল্পনা, মূল্যায়ন বা চলমান প্রযুক্তিগত উদ্যোগের অংশ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: এএফপি

    এখানে সামরিক কৌশলের একটি মৌলিক পরিবর্তন দেখা যায়। আগে ঘাঁটির নিরাপত্তা বলতে মূলত শত্রুর হামলা ঠেকানো, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং অস্ত্রভান্ডার সুরক্ষাকে বোঝানো হতো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ঘাঁটির বাইরে থাকা অবকাঠামো ধসে পড়লেও ঘাঁটির ভেতরের যুদ্ধক্ষমতা কীভাবে টিকিয়ে রাখা যাবে?

    চীনের ছায়া, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা

    ফোর্ট্রেস আমেরিকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্পকে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা থেকে যতটা সম্ভব মুক্ত করা। আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে বিরল মৃত্তিকা, বিশেষ ধাতু, সেমিকন্ডাক্টর ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান প্রয়োজন হয়। এসব উপকরণের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কয়েকটি দেশের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকলে যুদ্ধের সময় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    এখানে চীনের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিরল মৃত্তিকা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের খনন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের বড় অবস্থান রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা বাড়লে এসব উপকরণ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় শুধু অস্ত্রের মজুত বাড়ানো নয়, বরং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, যন্ত্রাংশ ও উৎপাদন সক্ষমতার বিকল্প উৎস তৈরি করাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

    পেন্টাগনের ঘোষিত পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রয়েছে জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা, প্রতিরক্ষা শিল্প ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা, কৌশলগত মজুত, সামরিক স্থাপনার সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং মহাকাশ ও যোগাযোগব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা। সূত্র: সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS), অক্টোবর ২০২৬

    এই পরিকল্পনার ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য হলো, যুক্তরাষ্ট্র এখন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে শুধু অত্যাধুনিক অস্ত্রের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। প্রতিপক্ষ যদি সরবরাহব্যবস্থার দুর্বল জায়গায় চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    তবে এখানে একটি বাস্তব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সব গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও প্রতিরক্ষা উপকরণ দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উৎপাদন করা সহজ নয়। নতুন খনি, কারখানা, দক্ষ কর্মী, প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, বিদেশি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা বাস্তবায়নে সময়, বিপুল বিনিয়োগ এবং মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা লাগবে।

    No Winners but Only Losers in the China-US Trade War
    যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ

    যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট: বিদ্যুৎ, সাইবার ও মহাকাশ

    আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিপদ সব সময় আকাশে উড়তে থাকা যুদ্ধবিমান কিংবা সমুদ্রের যুদ্ধজাহাজ থেকে আসে না। কখনো একটি বিদ্যুৎ গ্রিডে সাইবার হামলা, যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন কিংবা স্যাটেলাইটের সংকেত বাধাগ্রস্ত করেও সামরিক কার্যক্রমে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করা সম্ভব।

    ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং এফবিআই চীন-সমর্থিত ‘ভোল্ট টাইফুন’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ে যৌথ সতর্কতা জারি করেছিল। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ, জ্বালানি, পরিবহন ও পানি সরবরাহ খাতের গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করেছিল এবং ভবিষ্যৎ সংকটে এসব পরিষেবা ব্যাহত করার সক্ষমতা তৈরি করতে চাইছিল। চীন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা CISA, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

    এই অভিজ্ঞতা ফোর্ট্রেস আমেরিকার গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। সামরিক ঘাঁটি যদি বেসামরিক বিদ্যুৎ গ্রিড, বহিরাগত যোগাযোগব্যবস্থা এবং দীর্ঘ সরবরাহশৃঙ্খলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকে, তাহলে সরাসরি সামরিক হামলা ছাড়াও প্রতিপক্ষ তার কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে।

    পেন্টাগন তাই সামরিক স্থাপনার সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা এবং স্যাটেলাইট ও যোগাযোগব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বাড়ানোর কথা বলছে। জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত হলে বা স্যাটেলাইট যোগাযোগে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। একইভাবে গোলাবারুদ, জ্বালানি, ওষুধ এবং রক্তের মতো চিকিৎসাসামগ্রীর পর্যাপ্ত মজুত যুদ্ধের সময় সেনাদের কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

    তবে এই প্রস্তুতি শুধু শত্রুর হামলা মোকাবিলার জন্য নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতেও এমন সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। অর্থাৎ, ফোর্ট্রেস আমেরিকার সামরিক উদ্দেশ্য থাকলেও এর কেন্দ্রে রয়েছে অবকাঠামোগত স্থিতিশীলতা।

    The image shows an aircraft maintenance hangar at the former Roosevelt Roads Naval Station (José Aponte de la Torre Airport) in Ceiba, Puerto Rico. Photo: Reuters
    ছবিটিতে পুয়ের্তো রিকোর সেইবায় অবস্থিত প্রাক্তন রুজভেল্ট রোডস নেভাল স্টেশনের (হোসে আপোন্তে দে লা তোরে বিমানবন্দর) একটি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স

    স্বনির্ভর দুর্গ, নাকি দীর্ঘ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন?

    ফোর্ট্রেস আমেরিকার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি শুধু নিজের ভূখণ্ড রক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি দীর্ঘস্থায়ী ও উচ্চমাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও বাড়াতে চাইছে?

    দুই বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সামরিক ঘাঁটিগুলোকে স্বনির্ভর করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলা বা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলেও বিদেশে মোতায়েন করা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সহজ হতে পারে। তাই এই উদ্যোগকে নিছক আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখলে এর পূর্ণ কৌশলগত তাৎপর্য ধরা পড়বে না। একই সঙ্গে একে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে আসন্ন যুদ্ধের প্রস্তুতি বলারও ভিত্তি নেই।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান CSIS-এর মূল্যায়নে, ফোর্ট্রেস আমেরিকা বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতির নির্দেশনা নয়; বরং সামরিক স্থাপনাগুলোর স্থিতিশীলতা বাড়িয়ে সেগুলোকে সংকটের মধ্যেও কার্যকর রাখার উদ্যোগ। তবে পরিকল্পনার কিছু লক্ষ্য আগেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর অগ্রাধিকারে ছিল। নতুন বিষয়টি হলো, সেগুলোকে একটি বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় সমন্বিত করার চেষ্টা। সূত্র: CSIS, অক্টোবর ২০২৬

    বাস্তবায়ন অবশ্য সহজ হবে না। শত শত সামরিক স্থাপনায় বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করতে বিপুল অর্থ লাগবে। প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা ও সরবরাহকারী প্রয়োজন হবে। আর ক্ষুদ্র পারমাণবিক চুল্লির মতো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, অনুমোদন, ব্যয় এবং বাস্তব ব্যবহারের প্রশ্নও রয়েছে। ফলে ঘোষণার পরই পুরো মার্কিন সামরিক ব্যবস্থা স্বনির্ভর হয়ে যাবে, এমন ধারণা ভুল হবে।

    শেষ পর্যন্ত ফোর্ট্রেস আমেরিকার মূল বার্তা হলো, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে শুধু শত্রুর অস্ত্রের চেয়ে উন্নত অস্ত্র থাকলেই চলবে না; নিজের বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থাও বিপর্যয়ের মুখে টিকিয়ে রাখতে হবে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও যে এসব অবকাঠামোগত দুর্বলতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, সেটিই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য।

    প্রশ্ন শুধু যুক্তরাষ্ট্র কত শক্তিশালী, তা নয়। বরং প্রশ্ন হলো, আধুনিক যুদ্ধের প্রথম ধাক্কায় তার শক্তির ভিত্তিগুলো কতটা অক্ষত থাকবে- আর সেই পরীক্ষার জন্যই কি পেন্টাগন এখন নিজের ভূখণ্ডে স্বনির্ভর সামরিক দুর্গ গড়ে তুলতে চাইছে?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    খেলা

    ৩ বছরের শিশুর ফুটবল খেলা নিয়ে বিতর্ক, মাঠে ডাকতে হলো পুলিশ

    অক্টোবর 27, 2026
    বিশ্ব অর্থনীতি

    চীনের এআই ও সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে ধস, বাজারমূল্য কমেছে ৪৮ হাজার কোটি ডলার

    অক্টোবর 27, 2026
    আন্তর্জাতিক

    ফিলিস্তিনিরা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই ইসরায়েলে ভোট দিচ্ছে

    অক্টোবর 27, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.