চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সময়সূচি অনুসরণ করে আজ (শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী এসব এলাকায় একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
আজ সকাল ৯টার দিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা মাঠেও আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী।
এছাড়া ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও ঈদের বড় জামাত হয়। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা সকাল থেকেই ঈদের নামাজে অংশ নিতে ভিড় করেন। ঈদ উপলক্ষে মুন্সীরহাট বাজারে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। শিশু-কিশোরদের জন্য বসে বিভিন্ন খেলনা ও খাবারের দোকান, যা এলাকাজুড়ে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।
নামাজে অংশ নেওয়া এক মুসল্লি মো. ইউসুফ জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করতেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রয়েছে। আরেকজন মুসল্লি মির্জা আব্বাস উদ্দিন বলেন, তারা ৩০টি রোজা পূর্ণ করে ঈদ উদযাপন করছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাজে অংশ নিয়েছেন। একই দিনে মুন্সীরহাট এলাকার টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠেও সকাল সোয়া ৯টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা বরকত উল্যাহ।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে তাদের অনুসারীরা বিশ্বের কিছু দেশের সঙ্গে সময় মিলিয়ে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রথা দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, চাঁদ দেখার বিষয়ে নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে তারা নিজস্ব যাচাই-বাছাই করেন। সন্দেহ থাকলে তারা তা গ্রহণ করেন না এবং পূর্ণ ৩০টি রোজা শেষ করে ঈদ উদযাপন করেন। জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই আগাম ঈদ উদযাপনের চিত্র দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতির কারণে প্রতিবছরই এসব এলাকায় আলাদা দিনে ঈদ উদযাপিত হয়।

