দেশের শেভিং ব্লেডের বাজারে অবৈধ পণ্যের প্রভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পাইকারি থেকে খুচরা—সব স্তরেই কোটি কোটি টাকার চোরাই ব্লেড ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সরকার যেমন বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি টিকে থাকার লড়াইয়ে পড়েছে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে ব্লেড চোরাচালান হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর ধরন বদলেছে। এখন চক্রগুলো আরও সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর। ট্রাকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা হচ্ছে। পণ্য লুকানোর ক্ষেত্রেও নেওয়া হচ্ছে কৌশলী পদ্ধতি—পাথরের নিচে চালান গোপন রেখে সীমান্ত পার করার ঘটনাও ধরা পড়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘জিলেট’ বাংলাদেশে তাদের আনুষ্ঠানিক ডিস্ট্রিবিউশন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তবে এর পরও প্রতিষ্ঠানটির নাম ব্যবহার করে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ব্লেড দেশে ঢোকার অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাজারে নকল ও অননুমোদিত পণ্যের বিস্তার ঘটছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযান চোরাচালানের ব্যাপকতা স্পষ্ট করে। গত বছরের ১৯ নভেম্বর হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়। একই বছরের ২৬ এপ্রিল সিলেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার এবং বিজিবির পৃথক অভিযানে আরও ৬ কোটি টাকার চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে একদিনেই ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার অবৈধ পণ্য জব্দের ঘটনা আলোচনায় আসে। এসব পণ্যের মধ্যে শেভিং ব্লেডও ছিল।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এসব অভিযান বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাজারে নিয়মিত নজরদারি না থাকায় পাইকারি পর্যায়ে প্রকাশ্যেই চোরাই ব্লেড বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না বলেও দাবি তাদের।
দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনই অর্থনীতির ভিত্তি। স্থানীয় ব্লেড প্রস্তুতকারকরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে উৎপাদন ও বিপণন করছেন এবং নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অবদান রাখছেন। বিপরীতে চোরাচালানকারীরা কোনো শুল্ক বা কর ছাড়াই পণ্য বাজারে ছাড়ছে। এতে বৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রতিযোগিতা অসম হয়ে পড়ছে।
তাদের মতে, অবৈধ আমদানি ঠেকাতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি, শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা এবং বাজারে নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। তা না হলে সম্ভাবনাময় এই শিল্প খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

